তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
শিক্ষাবৃত্তির টাকা জালিয়াতি, প্রতিকার চেয়ে ইউএনওর দ্বারে শিক্ষার্থী

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর শিক্ষাবৃত্তির টাকা জালিয়াতি ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। সুবিচারের আশায় এবং বকেয়া টাকা উদ্ধারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাপস সরকার ২০২০ সালে তারাগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে দলিত সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদত্ত শিক্ষাবৃত্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হন। প্রথম কিস্তির ১৪ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংক থেকে তাঁর নামে চেকের মাধ্যমে ছাড় করা হয়। তবে টাকা উত্তোলনের পর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আবদুল্লাহ্-আল-মামুন তাঁকে দেখা করতে বলেন। পরবর্তীতে দেখা করলে তিনি তাপসকে মাত্র ৫ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিয়ে বাকি ৯ হাজার টাকা নিজের কাছে রেখে দেন। এরপর দুর্গাপূজা উপলক্ষে বোনের পোশাক কেনার জন্য তাপস তাঁর কাছ থেকে আরও ১ হাজার টাকা নেন। এভাবে প্রথম কিস্তির ১৪ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ৬ হাজার টাকা পান তাপস সরকার, আর বাকি ৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
পরবর্তীকালে শিক্ষাবৃত্তির দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির টাকাও দেওয়া হয়নি তাঁকে। সম্প্রতি চতুর্থ কিস্তির টাকা বরাদ্দ হওয়ার পর তাপস সরকার সমাজসেবা কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও নানা অজুহাতে তাঁর টাকা না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বকেয়া শিক্ষাবৃত্তির সমুদয় অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবিতে তিনি তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন জমা দেন।
ভুক্তভোগী তাপস সরকারের বাড়ি উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামে। ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার বাবা ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্টে আমাদের পড়ালেখার খরচ চালান। কষ্টের দিনে আমার ন্যায্য শিক্ষাবৃত্তির টাকা যারা জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করেছে, আমি তাদের কঠোর শাস্তি ও নিজের বকেয়া টাকা ফেরত চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আবদুল্লাহ্-আল-মামুন নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, “আমি তাপস সরকারের টাকার বিষয়ে কিছু জানি না। সবকিছু আমাদের স্যার জানেন।”
অন্যদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মো. মাহমুদুল হক জানান, “যার টাকা, তার মোবাইলেই যাওয়ার কথা। সে যদি টাকা না পেয়ে থাকে, তবে সেই টাকা সরকারি তহবিলে ফেরত চলে যাবে।”
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন বলেন, “শিক্ষাবৃত্তির অর্থ জমার বিষয়টি সমাজসেবা কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন।”
পিডিএস/এমএইউ









































