আবু আফজাল সালেহ
বিশ্লেষণ
শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে কোনো আপস চলবে না

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে শিক্ষা কার্যক্রম, বাধ্যতামূলক ও সর্বজনীন, অবৈতনিক, গণমুখী, সবার জন্য একই শিক্ষাব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে সাংবিধানিক রূপরেখা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষাকে গণমুখী, সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ দক্ষ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য। এ ছাড়াও, সংবিধানের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে এবং অনগ্রসর গোষ্ঠীর অগ্রগতির জন্য বিশেষ শিক্ষা সুবিধা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু দেশে শিক্ষার মান ক্রমে নিচের দিকে নামছে।
আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগ ক্ষমতায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মোট বিশ্ববিদ্যালয় ১৭২টি। এর মধ্যে সরকারি ৫৬টি আর বেসরকারি ১১৬টি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রকাশিত ২০২৫ সালের বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই স্থান পায়নি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং ২০২৫’-এ সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের ২০২২ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা শেষে মাতৃভাষা বাংলায়ই অর্ধেক শিক্ষার্থী দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন বিভাগের সর্বশেষ ২০২৩ সালের প্রতিবেদনেও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার চিত্র ওঠে আসে। প্রতিবেদন বলছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইংরেজিতে অবস্থা খারাপ। একই শ্রেণিতে গণিতে ৪৩ শতাংশের অবস্থা খারাপ। অষ্টম শ্রেণিতে ইংরেজিতে ২৮ শতাংশ মোটামুটি ভালো, অন্যরা নানা স্তরে রয়েছে। ওই শ্রেণিতে গণিতে ৩৬ শতাংশ মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাজ্যের মান অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি স্নাতক সমমানের। আর বিশ্ববিদ্যালয়টির স্নাতক ডিগ্রি ফাউন্ডেশন কোর্সের সমমানের। এ কারণে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় তিনি কোনো নম্বর পাননি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত স্নাতক সনদকে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ ‘ডিপ্লোমা’ হিসেবে গণ্য করছে। অনেক দেশেই এখন বাংলাদেশের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিকে স্নাতক মানের ধরা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলেও শিক্ষার মানের একটা চিত্র বেরিয়ে আসে। ওই শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান ইউনিটে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৯৪ শতাংশ অকৃতকার্য। কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটেও ৯০ শতাংশের বেশি ভর্তিচ্ছু ফেল করেছেন। এই দুই ইউনিটের পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া এক লাখ ২১ হাজার শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের করুণ চিত্র ওঠে আসে, যা বাংলাদেশের শিক্ষার মানেরই বহিঃপ্রকাশ। জরিপ অনুসারে, দেশে যত বেকার আছেন, তাদের মধ্যে সাড়ে ১৩ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী। ৭.১৩ শতাংশ বেকার উচ্চ মাধ্যমিক পাস। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন বেকারের একজন ব্যক্তি স্নাতক ডিগ্রিধারী বা উচ্চ মাধ্যমিক সনদধারী।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অঙ্গনে বাংলাদেশের ডিগ্রির মান অবনমনেরও খবর আসছে। বিশ্বব্যাংকের চলতি বছরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষার মান নিয়ে বলা হয়, একটি শিশু ১৮ বছর বয়সে সাধারণত ১১ বছর মেয়াদি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করে (প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি)। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শেখার মান বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ৬.৫ বছরের সমতুল্য। অর্থাৎ শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মানে বাংলাদেশ অন্তত ৪.৫ বছর পিছিয়ে। সে ক্ষেত্রে দেশের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সপ্তম শ্রেণির সমান, যা শিক্ষার গুণগত দুর্বলতার বড় প্রমাণ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী পাঠ্যবই ঠিকভাবে পড়তে পারে না। মাধ্যমিক পাস করেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আমাদের শিক্ষার্থীরা সাড়ে চার বছরের শিখন ঘাটতিতে রয়েছে। বিশ্ব র্যাংকিং-এ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো জায়গা করে নিতে পারছে না।
শিক্ষার মান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। টেকসই ভবিষ্যতের স্বার্থে সনদসর্বস্ব শিক্ষার চেয়ে দক্ষতা, নৈতিকতা ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার মান নিয়ে আপস না করার জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের বিকল্প নেই। পরীক্ষার মূল্যায়নে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন করার পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে হবে। পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শুধুমাত্র মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভর না করে, হাতে-কলমে ও কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দেওয়া জরুরি বিষয় হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। শ্রেণি কক্ষে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, ডিজিটাল ল্যাব ও পঠন-পাঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিখনঘাটতি দূর করতে বিদ্যালয়গুলোকেও আরো সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এ জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও শ্রেণিকক্ষের প্রস্তুতি বাড়ানো, বিদ্যালয়ের শিক্ষকের স্বল্পতা দূর করার জন্য নিয়োগ কিংবা সমন্বয়, বাড়ির কাজ যথাযথ মূল্যায়ন, কম শিক্ষার্থী থাকা বিদ্যালয় একীভূত করা এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে শিক্ষক-অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে অবশ্যই লাইব্রেরিতে সময় দিতে হবে। লাইব্রেরিগুলো উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ইউনিট জুন-২৬ ঢাকা মহানগর ও জেলা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ এলাকার মোট প্রায় ২ হাজার ১০০টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ভয়াবহ চিত্র পেয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের এই এলাকাতেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিশুশিক্ষার্থী বাংলা ভাষার কয়েকটি বর্ণ-ই, ঈ, উ, ঊ, স, শ এবং ঙ সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। যুক্তবর্ণে তারা হোঁচট খায়। দেশের অন্যান্য স্থানে আরো ভয়াবহ অবস্থা। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা তো সবাই জানে। প্রাথমিক স্তরে পড়া, লেখা ও গণনার দক্ষতা দুর্বল থাকলে পরবর্তী শ্রেণিতে তার প্রভাব আরো প্রকট হয়। কর্মক্ষেত্রে গিয়েও তার প্রভাব পড়ে থাকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষকের যেমন অভাব, তেমনটি শিক্ষক সংকটও প্রবল। এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংকট দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে ৩৬ হাজার ২৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, যা মোট বিদ্যালয়ের ৫৫ শতাংশ। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষক সংকট, প্রশিক্ষণের ঘাটতি, মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন না করা, শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও দক্ষতাভিত্তিক পাঠদান প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। শিক্ষক ও স্টুডেন্টস লাইব্রেরিতে যাচ্ছে না। শিক্ষকরা কতটা আন্তরিকতা কিংবা কতটা প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে আসছেন সেটাও দেখার বিষয়। বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার স্বল্পতার জন্য অনেকে শিক্ষক হতে চাননি কিন্তু বেকারত্বের কারণে শিক্ষক হয়ে গেছেন। ফলে তাদের অনেকে দায়সারা পাঠদান করাচ্ছেন বলে শোনা যায়। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে মেধাবীদের এ পেশায় আনতে হবে। প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে দেশগুলো নজর দিয়েছে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর ওপর। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ধরা হয় ফিনল্যান্ডের বর্তমান ব্যবস্থাকে। বছরে দেশটির একজন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অন্তত ৭৪ বার পরীক্ষা বা মূল্যায়ন করা হয়। আমাদের দেশের মূল্যায়ন পদ্ধতি আর উন্নত শিক্ষার দেশের পদ্ধতি এক নয়, গতানুগতিক নয়। এ বিষয়েও প্রচুর কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
শিক্ষা হলো এমন একটি চাবিকাঠি যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) আরো অনেক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। মানসম্মত শিক্ষা পেলে মানুষ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। লিঙ্গ-বৈষম্য কমাতেও বিভিন্ন স্তর বা শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। স্কুলগুলোতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা বা সম্পদ সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশগুলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক; সেখানে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্কুলে পয়োনিষ্কাশন বা স্যানিটেশনের মৌলিক ব্যবস্থা নেই, অর্ধেকেরও বেশি স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এবং দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্কুলে ডিজিটাল সরঞ্জাম বা প্রযুক্তির অভাব রয়েছে। তাই, শিক্ষায় অর্থায়ন বা বিনিয়োগকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি, শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ের মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তর বা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অপরিহার্য। এডুকেশন নিয়ে আমাদের কোনো ভিশন নেই, পলিসিরও ঠিক নেই। কারিকুলামও না বুঝে-শুনে বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে আমরা একবার সামনে যাই, আবার পেছনে যাই। প্রতিবন্ধী, ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে। এসব বিষয় নিয়ে আলাদা আলাদা কাজ করার দরকার রয়েছে। এসডিজি অর্জনের জন্য শিক্ষায় অর্থায়ন বা বিনিয়োগকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি, স্কুলের মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তর বা প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য।
দেশে ১৯৯০ সালে ‘প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন’ পাস হয়। কিন্তু তার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ কম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মান খারাপ বলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ঝুঁকে পড়ছেন অনেক অবিভাবক। অনেক শিক্ষক সরকারি বিদ্যালয়ে না পড়িয়ে বেসরকারি বিদ্যালয়ে বেশি খরচ করে তাদের সন্তানকে পড়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত ২০৩০ সালের শিক্ষা-লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে অগ্রগতি সাধিত হলেও, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে এবং কাউকে পেছনে ফেলে না রেখে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রয়োজন। ২০৩০ সালের মধ্যে সব ছেলে ও মেয়ের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষারব্যবস্থা করার পাশাপাশি, সাশ্রয়ী বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, লিঙ্গ ও সম্পদ-ভিত্তিক বৈষম্য দূর করা এবং মানসম্মত উচ্চশিক্ষায় সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য। বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার মান বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। সরকার প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষায় মান উন্নয়নে যথেষ্ট কাজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের অনেকেই সহযোগিতা করছি বলে মনে হচ্ছে না। উদ্ভট চিন্তা নিয়ে অযথা আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। বিরোধিতার খাতিরেই অনেক অভিভাবক কিংবা রাজনীতিবিদ কিংবা শিক্ষাবিদ উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশকে শিক্ষার অধিকারকে পূর্ণাঙ্গ মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সময় এখনই। শিক্ষার মান উন্নয়নে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের বিকল্প নেই। প্রাথমিকে জোর দিতে হবে। বিষয়ভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে। অঞ্চলভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা দরকার। গবেষণার ওপর জোর দিতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট ও বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক মূল্যবোধের শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা দরকার। উন্নত জাতি ও নাগরিক গড়তে হলে এর বিকল্প নেই।
লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক
"





































