এএফএম মমতাজুর রহমান, আদমদীঘি (বগুড়া)

  ১৬ ঘণ্টা আগে

বগুড়ার আদমদীঘি

খাল পুনর্খননে ফিরল কৃষির সুদিন

এক সময় শুকনো মৌসুমে পানির অভাব আর বর্ষায় জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়তেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কৃষকরা। তবে খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রমের ফলে এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। প্রাণ ফিরে পেয়েছে ফসলি মাঠ কৃষকদের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি। এদিকে খাল খননের পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধিসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জানা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দেশে খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাল খনন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এর ফলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয় এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বাবার স্বপ্নকে ধারণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম, নসরতপুর ও আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের জিনইর বড়আখাড়ি থেকে দত্তবাড়িয়া শাওইল গ্রাম অভিমুখী খাল পুনঃখনন কাজ গত ১০ মে শুরু হয়। এই সংস্কার কাজে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় ২২০ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী। এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে উপকারভোগীদের জন্য ওয়েজ কস্ট বরাদ্দ ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার এবং নন-ওয়েজ কস্ট খাতের ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে ৪০ লাখ টাকা। ৮৭ লাখ টাকার এই প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় বদলে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠের চিত্র। আর কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি এবং প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে তার প্রাণচাঞ্চল্য।

স্থানীয় কৃষক বেলাল ও রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় খালটি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল। সম্প্রতি খালটি পুনঃসংস্কার করায় সেচব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং চাষাবাদের খরচও কমবে। আগে পানির সংকটের কারণে যেসব জমিতে পুরোপুরি চাষাবাদ করা সম্ভব হতো না সেসব জমিও এখন আবাদ করা যাবে। এছাড়া খালটি

খননে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা জলাধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে

জলাবদ্ধতা নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের এমন উদ্যোগে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। খালটি পুনঃখননের ফলে সেই সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন খালের আশপাশের জমিগুলোতে সেচ সুবিধা সহজলভ্য হবে। শুধু তাই নয়, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো। এখন খালটি পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়