টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

  ৫ ঘণ্টা আগে

বদলে যাওয়া গাজীপুর বিআরটিএ, দালালমুক্ত সেবায় ফিরছে স্বস্তি

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

একসময় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং দীর্ঘসূত্রতায় সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম ছিল গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়। একটি ফিটনেস সনদ, মালিকানা হস্তান্তর কিংবা যানবাহন সংক্রান্ত যেকোনো সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা আর চরম হয়রানির শিকার হতে হতো সেবাপ্রার্থীদের। তবে গত এক বছরে বদলে গেছে সেই চিত্র।

বর্তমানে কার্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরে আসার পাশাপাশি কমেছে দালালদের উপদ্রব। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে এখন তুলনামূলক অল্প সময়েই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে সেবাগ্রহীতাদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সার্বিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং দালালমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন সহকারী পরিচালক এস এম মাহফুজুর রহমান ও মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরেফিন। তাঁদের নিবিড় তদারকি ও সদিচ্ছার ফলেই সেবার মানে এই দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।

গাজীপুর বিআরটিএতে সেবা নিতে আসা টঙ্গীর বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, "আগে বিআরটিএতে এলে পুরো দিন নষ্ট হতো। এখন নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করে কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই অল্প সময়ে কাজ শেষ করতে পেরেছি।"

একই অনুভূতি প্রকাশ করে শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা মোছা. রোকসানা আক্তার বলেন, "গাড়ির কাজ নিয়ে এসেছিলাম। কর্মকর্তারা নিজ থেকেই তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আগের মতো কোনো অনিয়ম বা বাড়তি টাকা চাওয়ার ঘটনা দেখিনি।"

এ বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরেফিন বলেন, "আমরা প্রতিদিন সেবা কার্যক্রম সরাসরি মনিটরিং করছি। সঠিক কাগজপত্র থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেবা দেওয়া হচ্ছে। জনগণের আস্থা অর্জনই আমাদের বড় অর্জন।"

গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক এস এম মাহফুজুর রহমান জানান, সেবাপ্রার্থীরা যাতে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, সেটিই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। দালালদের কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং অনিয়মের চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের প্রত্যাশা, গাজীপুর বিআরটিএর এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে এটি সারাদেশের অন্যান্য কার্যালয়ের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়