মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি

  ৫ ঘণ্টা আগে

‘ভালো থাকিস’—স্মৃতি আঁকড়ে মাভাবিপ্রবি ছাড়ল ১৬তম ব্যাচ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কিছু বিদায় শব্দে প্রকাশ করা যায় না। শেষবারের মতো চেনা করিডোরে হাঁটা, প্রিয় বেঞ্চে নীরবে বসে থাকা কিংবা অশ্রুসজল চোখে বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে বলা—"ভালো থাকিস।" এমন সব নিঃশব্দ মুহূর্তই জানান দেয়, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়টির ইতি ঘটতে চলেছে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের প্রজেক্ট ডিফেন্স শেষ হতেই নেমে এসেছে এমন বিদায়ি সুর। ২০২২ সালের ২৭ মার্চ বুকভরা স্বপ্ন ও শঙ্কা নিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এসে সমাপ্তি ঘটল সেই প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রার।

ডিফেন্স শেষে ফাঁকা হতে শুরু করেছে বিভাগের চেনা আঙিনা। ক্যাম্পাস ছেড়ে এখন বাস্তবতার মুখোমুখি শিক্ষার্থীরা—কেউ পোশাকশিল্পে যোগ দেবেন, কেউ বিসিএস ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, আবার কেউ হয়তো গবেষণার প্রয়োজনে থেকে যাবেন এই প্রাঙ্গণেই। চার বছরের পথচলায় ক্লাসরুম, ল্যাব, পরীক্ষার উৎকণ্ঠা আর রাত জেগে প্রজেক্ট করার টানাপোড়েনে এরা শুধু সহপাঠী ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন একে অপরের সমব্যথী পরিবার।

বিদায়লগ্নকে স্মরণীয় করতে গত ২০ জুলাই রাতে আয়োজিত হয় নৈশভোজ ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান। শিক্ষক ও অনুজ ১৭তম ব্যাচের উপস্থিতিতে আড্ডা আর হাসিতে সন্ধ্যাটি মুখর থাকলেও, শেষবেলায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি হয় শেষ ছবি, আড়ালে মোছা হয় চোখের কোণের জল।

বিদায়ি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষকেরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি ডিগ্রির স্থান নয়, এটি মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পাঠশালা। সততা ও দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে গেলে সফলতা আসবেই।

ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি হয়তো কেবল আরেকটি ব্যাচের গ্র্যাজুয়েশন। কিন্তু চলে যাওয়া তরুণদের কাছে এটি জীবনের সবচেয়ে নির্মল সময়কে পেছনে ফেলে নতুন আকাশে ডানা মেলার শুরু। ঠিকানা ও পরিচয় বদলাবে, ব্যস্ততা বাড়বে, হয়তো আর একসঙ্গে আড্ডা হবে না—তবু কোনো এক ফুরসতে ধুলো জমা ছবির অ্যালবাম খুলে মনে পড়বে: এই ক্যাম্পাসেই প্রথম স্বপ্ন দেখতে শিখেছিলেন তাঁরা।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়