reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৮ মার্চ, ২০২৫

শতাব্দী জাহিদ

ফরিয়াদনামা

রিজিকের মালিক, আমি চাই বলে তৃপ্তির সীমানার বেশি অন্ন দিও না আমায়-

দয়াময়, আমার শ্রবণশক্তি অতখানি প্রখর প্রহরী কর,

ক্ষুধার্তের থালার কণ্ঠ যেন শিল্পকলার অভিনয়ে না হারায়।

কবুলের মালিক, শ্রেষ্ঠত্বের নামতায় আলাদিনের প্রদীপ চাইব-ই আমি।

সাধারণ করে রেখো গোটা জীবন;

পেছনে হাঁটা ছায়াটা যেন আমার সামনে চলে সর্বদা।

স্রষ্টা, কোনো কোনো পবিত্র রজনীর দোহাই দিয়ে,

বিলাপের কায়দায় ঠিক চাইব-

হিসাবশূন্য খাজানার চাবি দিয়ে দাও গো, মালিক।

দো-জাহানের কারিগর, বৈভবের নতুন কায়দায়

সমুদ্রের তালঘেঁষা-

ইটালিয়ান পাথরের প্রাসাদ সমেত রাজার জীবন চাই আমার

দলিল চাইতেও ভুল হবে না।

কসম তোমার, ফাঁদে পড়ো না- এই সমস্ত ছলাকলার

পাদুকাশূন্য রাস্তার বাঁকে বারদরিয়ার একটা ঘর দিও-

নদীও যেমন ফিরে আসে, এমন একখানা ঠিকানা।

গাঙের ভাঙনের ভয়, শীতের খেজুরগুড়ের সুবাস,

বিড়ালের লোমের ঘুম দিও, মালিক।

যেন বোহেমিয়ান এই শরীর

বৃষ্টি, বাতাস, রৌদ্র সঙ্গমে আমিত্ব বাঁচে।

ঈশ্বর, ধরণীর সীমানায় থাকা মানুষ নই গো আমি-

চোখের পর্দা কেটে, শবযাত্রার সূচনাপত্রে

স্বর্গের চূড়ান্ত পুনর্জন্ম চাই আমার;

তোমার বেবাক দয়ার মহিমা ভোলা সত্ত্বেও।

প্রভু, মাটির গহীন অন্ধকারে-

অমাবস্যার রাতে, নদীর বুকে থাকা মাঝির আলো দিও-

দয়াময়, এই পাপের মনচোখে।

নিশ্বাসশূন্য কবরে মায়ের নাভীতে বেঁধে দিও পুনরায়

রেখো আঁচলের পবিত্র ওমে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়