আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির ১৩ বিলিয়ন ডলার কোথায় সরালেন ট্রাম্প!

চলতি বছর ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব আদায় করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের হিসাবে এই বিপুল আয়ের চিত্র উঠে এলেও, সংগৃহীত বিপুল এই অর্থের শেষ পরিণতি কী হয়েছে, সে বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরপরই সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার শীর্ষ নেতার দায়িত্বে বসায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটির খনিজ তেল রপ্তানির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে ওয়াশিংটন।
ভেনেজুয়েলার মোট মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় চার ভাগের এক ভাগই আসে এই খনিজ তেল খাত থেকে। ধারণা করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবরোধ শিথিল হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে—যে অর্থনীতি গত মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পের আগেই চরম সংকটে নিমজ্জিত ছিল।
কিন্তু মার্কিন প্রশাসন খনিজ তেলের অর্থ ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার লণ একেবারেই ীণ। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংগৃহীত খনিজ তেল বিক্রির সমুদয় অর্থ ওয়াশিংটন এখনো কারাকাসে ফেরত পাঠায়নি।
এই অর্থের ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তর থেকেও এসেছে পরস্পরবিরোধী ও বৈপরীত্যপূর্ণ তথ্য। যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক নির্বাহী আদেশে এই তহবিলের সুরায় নিজেদের ভূমিকা কেবল ‘হেফাজতকারী’ বা ‘রক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন—ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে।’
এমন পরিস্থিতিতে তহবিলের আসল অবস্থান কোথায় এবং এর ব্যবহারে দুর্নীতি ঠেকাতে কী ধরনের পদপে নেওয়া হচ্ছে—তা জানতে এখন ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের উভয় দলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) আইনপ্রণেতারাই। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নক হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাটিক সদস্য হোয়াকিন ক্যাস্ট্রো বলেন, ‘শুরু থেকেই ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের এই আগ্রাসন ছিল খনিজ তেল, মতা এবং দুর্নীতির খেলা। কোনো স্বচ্ছতা বা সুরাব্যবস্থা ছাড়াই ভেনেজুয়েলার কোটি কোটি ডলারের তেল রাজস্ব এখন ট্রাম্প প্রশাসনের পকেটে। আর এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ অন্ধকারে।’
পণ্য পরিবহন ও তথ্য বিশ্লেষণকারী প্ল্যাটফর্ম কেপলারের সংগৃহীত জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তেলের চালানের তথ্য ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার সম্ভাব্য তেল রাজস্বের এই পরিমাণ হিসাব করেছে এফটি। এর পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণী সংস্থা আর্গাস মিডিয়ার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভেনেজুয়েলায় উৎপাদিত অতিরিক্ত ভারী খনিজ তেল মেরে (গবৎবু) এবং তুলনামূলক কম পরিচিত অন্য দুই জাতের অপরিশোধিত তেল ‘বোসকান’ (ইড়ংপধহ) ও ‘হামাকা’র (ঐধসধপধ) সম্ভাব্য দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল্যের এই উপাত্তে ভেনেজুয়েলার সব জাতের তেল অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি, আর তা হিসাব করা শুরু হয়েছে মূলত ফেব্রুয়ারি থেকে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সরাসরি বিক্রির আনুমানিক মূল্য ধরে যে পরিমাণ তেল পাঠানো হয়েছে, তার দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১.৫ বিলিয়ন ডলার। তবে অতীতের তেলের দামের ধরন বিবেচনা করলে দেখা যায়, হিসাবের বাইরে থাকা তেলের পরিমাণ যোগ করলে সব মিলিয়ে মোট আয় সহজেই ১৩ বিলিয়ন (১ হাজার ৩০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত এই খনিজ তেল বিক্রির অর্থ তদারকি করার জন্য ভেনেজুয়েলা সরকার একটি ওয়েবসাইট চালু করলেও, সেখানে কেবল একটি মাত্র হিসাবের তথ্য মেলে—যেখানে দেখা যাচ্ছে চলতি বছরের গত মার্চ মাসে ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছে।
"





































