আসিফ ইকবাল, বাকৃবি
গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
ব্রুসেলোসিসে খামারের বার্ষিক ক্ষতি প্রায় আড়াই কোটি টাকা

বাংলাদেশে গবাদি প্রাণীর ব্রুসেলোসিস রোগ দুগ্ধ খামারের অর্থনীতিতে মারাত্মক আঘাত হানছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষকের দুই বছরের গবেষণায় উঠে এসেছে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, লক্ষণহীন বা সুপ্ত ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত গাভী দৈনিক গড়ে ০.৫৩ লিটার এবং সক্রিয় আক্রান্ত গাভী দৈনিক ১.০১ লিটার কম দুধ দেয়। এর ফলে দেশের বড় ডেইরি খামারগুলোতে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যার প্রধান কারণ দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী অ্যানিমেল ডিজিজ-এ প্রকাশিত এই গবেষণার মূল নেতৃত্বে ছিলেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান। তাঁর সঙ্গে বাকৃবি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মিল্কভিটা এবং গ্রিসের থেসালি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল যৌথভাবে কাজ করেছে। সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিডিপি) অর্থায়নে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭টি বড় বাণিজ্যিক খামারের ২,৬৯৬টি গাভীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়।
অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান বলেন, "খামারিরা কেবল গর্ভপাত হলেই ব্রুসেলোসিসের কথা ভাবেন। কিন্তু লক্ষণহীন সুপ্ত রোগের কারণেও প্রতিদিন দুধ উৎপাদন কমছে, যা খামারিরা টেরও পাচ্ছেন না।" গবেষণায় দেখা যায়, প্রসবের পর 'গর্ভফুল আটকে যাওয়া' বা রিটেইন্ড প্লাসেন্টা এ রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি।
ক্ষতি নিরসনে গণটিকাদানকে সবচেয়ে লাভজনক সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে গবেষকরা জানান, টিকাদানে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগে গড়ে ৮ টাকা ১৪ পয়সা পর্যন্ত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। এছাড়া এটি একটি বিপজ্জনক 'জুনোটিক রোগ' হওয়ায় কাঁচা দুধ পান বা আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে মানুষের শরীরেও এ রোগ ছড়াতে পারে। তাই দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি ও পরিকল্পিত টিকাদানের মাধ্যমে দেশের ডেইরি খাতকে রক্ষায় জোর দিয়েছেন গবেষকরা।
পিডিএস/এমএইউ









































