এইচ এম গিয়াস উদ্দিন, ঝালকাঠি

  ১ ঘণ্টা আগে

নিম্নচাপ ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত ঝালকাঠি, দিশেহারা কৃষকরা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একের পর এক নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ঝালকাঠির বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এতে রোপা আউশ, আমনের বীজতলা এবং বিভিন্ন ধরনের লতাজাতীয় শাকসবজির ক্ষেত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পানিতে দীর্ঘদিন ডুবে থাকায় অনেক ফসল পচে নষ্ট হতে বসেছে, যা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনভর মুষলধারে বৃষ্টি এবং সংলগ্ন নদ-নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমিগুলো এখন পানির নিচে। বিশেষ করে আমনের নতুন চারা ও পরিপক্ক হতে যাওয়া রোপা আউশের ধান জোয়ারের তোড়ে পলিমাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

একই সঙ্গে পেঁপে, লাউ, কাকরোল, চিচিঙা ও চালকুমড়াসহ বিভিন্ন লতাজাতীয় সবজি ক্ষেত দীর্ঘদিন জলমগ্ন থাকায় গাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে মাঠের পর মাঠ ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক লোকসান।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যাংক ঋণ ও বিভিন্ন জায়গা থেকে চড়া সুদে ধারদেনা করে মূলধন বিনিয়োগ করেছিলেন তারা। কিন্তু আকস্মিক এই জলজট ও বন্যায় এখন পরিবারের ভরণপোষণ চালানোই তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতের শাকসবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা তাদের জীবনজীবিকাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, কৃষকদের আশঙ্কার কথা তৈরি হলেও পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষেত থেকে পানি পুরোপুরি অপসারণের পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাপ ও চিত্র নিরূপণ করা সম্ভব হবে। সেই অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়