মধ্যরাতে মোদির ভিডিও বার্তা, অনশন ভাঙলেন ওয়াংচুক

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে ভিডিও বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র।
এদিকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেও দিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা অনড়।
ভিডিও বার্তায় মোদি বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার এবং আরও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া প্রস্তাব তিনি পেয়েছেন। এটি শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তার ভাষ্য, বর্ষাকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই বিলটি সংসদে উত্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ সমস্যা উল্লেখ করে মোদি বলেছেন, পুনরায় দ্রুত পরীক্ষা নিয়ে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করে সরকার ২২ লাখ শিক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে সরকার এখানেই থেমে থাকবে না বলেও তিনি জোর দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। তিনি বলেছেন, ‘যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশটির আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল জানান, প্রাথমিকভাবে বোম্বে, দিল্লি, কলকাতা ও মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে বিচারাধীন নিট-সংক্রান্ত মামলাগুলোর শুনানি এসব বিশেষ আদালতে হবে। প্রতিদিন শুনানি চালিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে সিজেপির নেতৃত্বে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলোর চাপের মুখে সরকার এ ঘোষণা আসে। তবে আন্দোলনকারীরা সরকারের পদক্ষেপকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেছেন। তাদের বক্তব্য, এতে রাজনৈতিক দায় নির্ধারণ কিংবা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের মূল দাবি পূরণের কোনো উদ্যোগ নেই।
এদিকে দীর্ঘ আলোচনার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর অনশন ভাঙেন সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে অনশন ভেঙে তিনি বলেছেন, সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কার কথা বিবেচনা করেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চুক্তির শর্তগুলো পরে বিস্তারিত জানাবেন বলেও জানান তিনি।
তবে ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পরও যন্তর-মন্তরে শত শত আন্দোলনকারী রাতভর অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। স্বেচ্ছাসেবকেরা খাবার, পানি ও হাতপাখা বিতরণ অব্যাহত রাখেন। চিকিৎসকেরা অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে স্লোগান, গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও চলতে থাকে। বিক্ষোভস্থলের দেড় কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনেক আন্দোলনকারী এলাকা ছাড়ার পর জানতে পারেন ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকে বলেছেন, এই আন্দোলন এখন আর শুধু একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়।









































