আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ১২ ঘণ্টা আগে

মালিতে হামলা চালানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিনের (জেএনআইএম) বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিষয়টি বিবেচনা করছে। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা এমনটাই জানিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা অনুমোদন পেলে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে যে দেশগুলোতে সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, মালি হবে সেই তালিকার অষ্টম দেশ। অথচ দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর প্রেসিডেন্সির এই অধ্যায়ের লক্ষ্য হবে বৈশ্বিক সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ আমেরিকান জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা।

তবে জেএনআইএমের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তি ব্যবহারের জোরালো সমর্থকদের একজন হলেন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রমবিষয়ক সিনিয়র পরিচালক সেবাস্টিয়ান গোরকা। সামরিক পরিকল্পনার মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় এসব কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

গোষ্ঠীটির পূর্ণ নাম জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন। তারা মালিতে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান হারে হামলা চালাচ্ছে। বর্তমানে এটি ওই অঞ্চলের সবচেয়ে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন এবং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও সেবা কেনার আহ্বান জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সাহারার দক্ষিণে বিস্তৃত আধা-শুষ্ক অঞ্চল সাহেলে সন্ত্রাসবাদ একটি ‘বহুজাতিক সমস্যা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক অংশীদার এবং ন্যাটো মিত্রদের আহ্বান জানাই, যাতে তারা অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটসকে জেএনআইএম ও আইএসআইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন দেয়।’

অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস গঠিত হয়েছে মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারকে নিয়ে। পশ্চিম আফ্রিকার এই তিন দেশেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারগুলোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়