আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ১২ ঘণ্টা আগে

যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে মার্কিন হামলা গড়াল ৫ম দিনে

ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ফের হামলা করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা সেন্টকোম। রাজধানী তেহরান, উপকূলীয় অঞ্চল এবং হরমুজগান প্রদেশে হামলা করা হয়েছে।

বুধবার শেষরাতের দিকে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) পক্ষ থেকে এক বার্তায় বলা হয়েছে, আজ ভোরের দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ইরানের বন্দর আব্বাস এবং তুনব দ্বীপসহ অন্যান্য অঞ্চলে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংক্রান্ত স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি সংক্রান্ত স্থাপনা এসব যেসব সক্ষমতার জোরে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে ইরান হামলা করেÍ সেসব সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করেছে। এই হামলা সময়সীমা বা ব্যাপ্তি ছিল ৯০ মিনিট। বন্দর আব্বাস এবং তুনব দ্বীপ ব্যতীত ইরানের কোন কোন অঞলে হামলা পরিচালনা করা হয়েছে, তা উল্লেখ করো হয়নি সেন্টকমের বার্তায়, তবে বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় বন্দর আব্বাস এবং তুনব দ্বীপের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের পাশাপাশি পূর্ব তেহরানের সেনমান বিমানবন্দর, খোন্দাব ও কেশম দ্বীপ এবং হরমুজগান প্রদেশের সিরিক এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে মার্কিন বাহিনী। এদিকে মার্কিন বাহিনীর এই হামলর কিছু সময় পর জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর আল আজরাক বিমান ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটির রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে ইরান।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে বিমান অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র; শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ। টানা ৪০ দিন ধরে যুদ্ধের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দুই দেশ। তারপর এই যুদ্ধবিরতিকে আরও দীর্ঘ করতে এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে মোট ১৪টি ধারা বা শর্ত ছিল। এসবের মধ্যে একটি ছিলÍ ইরান আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে। কিন্তু চুক্তির শর্ত ভেঙ্গে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের দুই ট্যাংকার জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা করে ইরান। সেই হামলার জবাবে ৭ জুলাই ইরানে পাল্টা হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকে গত ১১ জুলাই থেকে পুরোদমে হামলা-পাল্টা চলছে ইরানি ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে।

হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা: হরমুজ প্রণালিতে খার্গ দ্বীপের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা হয়েছে। জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন-টানা পঞ্চম দিনের অভিযানের অংশ হিসেবে খালি (তেলহীন) একটি ট্যাংকারকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর জাহাজটির ধোঁয়ার চিমনিতে (স্মোকস্ট্যাক) হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালায়। একই দিনের সকালে গ্রেটার তুনব দ্বীপে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও হামলা হয়।

এদিকে প্রথমবারের মতো রাজধানী তেহরানেও হামলার খবর প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা যায় বলে জানানো হয়। ইরানের পাল্টা হামলায় বাহরাইন ও কুয়েতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মার্কিন হামলায় ৩৫ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। মার্কিন সশস্ত্রবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল ইরানের সেই সামরিক সক্ষমতাগুলো, যেগুলো আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়