আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ১৬ জুলাই, ২০২৬

এবার বাবেল মান্দেব প্রণালি বন্ধের ইঙ্গিত ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত অচল করে দেওয়ার পর এবার লোহিতসাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও নতুন চাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের হুতি মিত্রদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌ চলাচল ব্যাহত করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরও বাড়াতে চাইছে। এমন হলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহনপথই ঝুঁকির মুখে থাকবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় অংশই পরিবহন হয়। অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিতসাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ ব্যবহার করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা গেছে, ইয়েমেনের হুতি আন্দোলন আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ সতর্ক করেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ফাওয়াজ গেরগেসের ভাষ্যমতে, তেহরান ওয়াশিংটনকে দেখাতে চাইছে, তারা প্রয়োজনে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব কৌশলগত দুই জলপথই একসঙ্গে অচল করে দিতে সক্ষম। এতে দ্বিপক্ষীয় সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার সংকটে রূপ নিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের চেয়ে ধীরে ধীরে সংঘাতের বিস্তার বা ‘মিশন ক্রিপ’-এর ঝুঁকিই এখন বেশি। উভয় পক্ষ সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে চাপ বাড়াতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এই সংকট ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্যও করতে পারে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হুতিরা লোহিতসাগরে ইসরায়েলসংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলাচল করতে বাধ্য হয়, যা পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালায় এবং আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠন করে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়