আপেল মাহমুদ, মান্দা (নওগাঁ)

  ১৫ ঘণ্টা আগে

মান্দায় অভিযোগ

অনুমোদন ছাড়াই সড়কের ২৩৭ গাছ সাবাড়

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বনবিভাগের কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই তিনটি সরকারি সড়কের ২৩৭টি ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক মহিলা দল নেত্রীর বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব সরকারি গাছ বিক্রি করে দেওয়ার এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামাণিকপাড়া সরকারি রাস্তায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ২০০৫ সালে ইউক্যালিপটাস ও আমগাছের চারা রোপণ করা হয়। হঠাৎ করেই গাছগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেয় ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েন দ্বারিয়াপুর (এফডব্লিউএডি) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।

সংস্থাটি নিজস্ব লোকজন দিয়ে বিক্রির জন্য ১২০টি ইউক্যালিপটাস এবং ১১৭টি আমগাছ চিহ্নিত করে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, গাছের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যাবে।

গত ৬ জুলাই গাছগুলো নিলাম দেওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন বেসরকারি ওই সংস্থার চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলাদলের সহসভাপতি আসমা ইসলাম। ওই নিলাম ডাকে প্রসাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডলও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বনবিভাগের অনুমোদন না থাকায় গাছ ব্যবসায়ীরা ডাকে অস্বীকৃতি জানালে নিলাম কার্যক্রম ভেস্তে যায়।এ অবস্থায় বিএনপিনেত্রী দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আবারও নিলাম ডাকের আয়োজন করেন।

গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে দ্বারিয়াপুর স্কুল-সংলগ্ন মোড়ে এ নিলাম ডাক অনুষ্ঠিত হয়। ডাকে অংশ নেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২১ জন গাছ ব্যবসায়ী। ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো ডেকে নেন দ্বারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা গাছ ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ। নিলাম ডাক কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপিনেত্রী আসমা ইসলাম, এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান খান, প্রধান শিক্ষক সদেরুল ইসলামসহ গ্রামপুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, নিলাম ডাকের পরদিন সোমবার ডাককারী আব্দুস সামাদ বেশকিছু শ্রমিক লাগিয়ে গাছগুলো কাটা শুরু করেন। ইতোমধ্যে অন্তত ৫০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে গাছগুলো কেটে নেওয়া হচ্ছে এনিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

উপজেলা মহিলাদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নয়, ইউনিয়ন পরিষদের সকল নীতিমালা মেনেই গাছগুলোর টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসকে অবগত করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান বলেন,

মোবাইল ফোনে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। তথ্য নিতে হলে অফিসে আসেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ প্রসঙ্গে মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহমেদ আলী মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার দপ্তরে এ ধরনের কোনো আবেদন করাও হয়নি। তবে বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়া সরকারি রাস্তার গাছ এভাবে কেউ কেটে নিতে পারেন না।’

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ওই সব রাস্তার গাছ টেন্ডার মাধ্যমে বিক্রির অনুমোদনের জন্য এ দপ্তরে কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে, কয়েকদিন পূর্বে একটি অবগত কপি দেওয়া হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়