মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

মোহনগঞ্জে পুলিশ হেফাজত থেকে জব্দ করা জাল ছিনতাই

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে হাওর থেকে জব্দ করা নিষিদ্ধ খনা জাল ও নৌকা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মোট ১ হাজার ১৬৫ জন জেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার মাঘান কুড়েরপাড় এলাকার জাকির (২২) ও মামুন (২৪)।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে বিশেষ অভিযান চালায় মোহনগঞ্জ থানার অধীনস্থ আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা। অভিযানে ২ হাজার ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল আকৃতির চারটি নিষিদ্ধ খনা জাল ও দুটি নৌকা জব্দ করে তদন্ত কেন্দ্রে এনে রাখা হয়।

পরদিন রোববার দুপুরে কয়েক শ জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আকস্মিক হানা দেন এবং সেখান থেকে জব্দ করা সব জাল ও নৌকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সোমবার পুলিশ পুনরায় হাওরে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া জালের মধ্য থেকে একটি খনা জাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশের মামলা ও আইনি পদক্ষেপ সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও রাষ্ট্রীয় হেফাজত থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত সোমবার রাতে আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল পারভেজ বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১ হাজার ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান বলেন, “মামলায় নামধারী দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িত সবার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিরোধের নেপথ্যে পোনা অবমুক্তকরণ ও নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের উদ্যোগে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর হাওরে প্রায় ৭৫ হাজার দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনাগুলো বড় হওয়ার সুযোগ দিতে স্থানীয়ভাবে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে জেলেদের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তবে স্থানীয় জেলেদের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ গত ২৮ জুন শেষ হয়ে গেছে। ফলে তারা আইনগতভাবে বৈধ উপায়ে মাছ ধরার অধিকার ফিরে পেয়েছেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে আরোপিত এই বাড়তি নিষেধাজ্ঞা মানতে তারা অনীহা প্রকাশ করছেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের সাথে সাধারণ জেলেদের কয়েক দফায় উত্তেজনা ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে জানানো হয়েছে, হাওরের মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের বিলুপ্তি ঠেকাতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়