চাঁদপুর প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

কাজ শেষ হওয়ার আগেই কোটি টাকার সেতুতে ফাটল, ঠিকাদারের কাজ বন্ধ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

চাঁদপুরের মতলব পৌরসভা এলাকায় প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই কাজের ক্ষেত্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছিল। এসব দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বর্তমানে ঠিকাদার নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন বলে দাবি তাঁদের।

ঘটনাটি মতলব পৌরসভার শহীদ উল্যাহর দোকান থেকে বড়দিয়া বাজার সড়কের ইছহাক মিজির বাড়ি সংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুর। প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতুর স্থানে আগে মাত্র ১০ ফুটের একটি কালভার্ট ছিল। প্রায় চার মাস আগে এই নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। একই প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কও নির্মাণ করার কথা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে নবনির্মিত সেতুর বিভিন্ন অংশে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান ফাটল দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের ফাটল পুরো প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন প্রধান বলেন, “দুই কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এভাবে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি ধসে পড়তে পারে বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে মানসম্মতভাবে পুনরায় কাজ সম্পন্ন করুক।”

মেহেদী হাসান মিজি নামে আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, “কাজের মান নিয়ে যখনই আমরা প্রশ্ন তুলেছি, তখনই ঠিকাদার ও পৌরসভার লোকজন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার ভয় দেখিয়েছেন। অথচ শুরু থেকেই ঢালাইয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এখন সেতুর নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন প্রকল্পের ঠিকাদার মো. জহির। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো সঠিক নয় এবং চলমান নির্মাণকাজের মান শতভাগ ঠিক আছে।

অন্যদিকে প্রকল্পটির নিয়মিত তদারকির দায়িত্বে থাকা মতলব পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফেরদৌস আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাঁকে দপ্তরে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সাংবাদিকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (যিনি বর্তমানে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন) তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের দাবি—সেতুর গুণগত মান যাচাইয়ে দ্রুত একটি স্বাধীন কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সাথে ফাটলের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, উদ্বোধনের আগেই যদি সেতুতে এমন ফাটল ধরে, তবে ভবিষ্যতে এটি চালুর পর যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ও জননিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়