তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
যৌতুকের দাবিতে ভেঙে গেল বিয়ে, ইউএনওর কাছে কনের বাবার লিখিত অভিযোগ

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও শেষ মুহূর্তে বরের পরিবার না আসায় একটি বিয়ে ভেঙে গেছে। অভিযুক্ত বরের বাড়ি পার্শ্ববর্তী তারাগঞ্জ উপজেলার হাঁড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নে।
কনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের আগমুহূর্তে বরপক্ষ আট লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা বিয়েতে আসেনি। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বরের পরিবার।
জানা গেছে, গত সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। কনের বাড়িতে প্যান্ডেল সাজানো, রান্নাবান্না এবং বরযাত্রী আপ্যায়নের সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বরপক্ষ না আসায় শেষ পর্যন্ত বিয়েটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
কনের বাবার অভিযোগ, বিয়ের ঠিক আগে বরপক্ষ যৌতুক হিসেবে নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং ঘর সাজানোর আসবাবপত্রের জন্য আরও তিন লাখ টাকা দাবি করে। তাদের এই দাবি পূরণ না করলে বিয়ে হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। কনের পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক অনুরোধ করেও বরপক্ষকে বিয়েতে রাজি করানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বর না আসায় বিয়ে ভেঙে যায়। এ ঘটনায় চরম অপমানিত ও ক্ষতিগ্রস্ত কনের বাবা তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কনের বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়ের গায়ে হলুদ হয়ে গেছে। সব আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার পর বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় এখন সমাজে আমরা মুখ দেখাতে পারছি না।”
অন্যদিকে যৌতুক দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে বরের বাবা বলেন, “আমরা কোনো ধরনের যৌতুক চাইনি। আমাদের দাবি ছিল এক লাখ টাকা দেনমোহর রাখার, কিন্তু কনের পরিবার জোর করে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করতে চেয়েছিল। মূলত এই দেনমোহর সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণেই আমার ছেলে বিয়েতে যায়নি।” তবে কনের পরিবার বিয়ের আয়োজনের জন্য ক্ষতিপূরণ চাইলে তারা তা দিতে রাজি আছেন বলে জানান তিনি।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি খুব দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পিডিএস/এমএইউ









































