আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর অফিস
বাঁধ ধসে ভাঙন
তিস্তাপারে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে দেড় হাজার পরিবারের

তিস্তার পানি কখনো বাড়ছে, আবার কয়েক ঘণ্টা পরেই কমছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে সপ্তাহখানেক আগে তিস্তার তীরসংলগ্ন বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। তবে গত সোমবার রাতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
তীব্র স্রোতের কারণে নবনির্মিত তীর সংরক্ষণকাজের প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ইতিমধ্যে কয়েকটি ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি লোকালয়ে পানি ঢুকে প্রায় এক হাজার পরিবারের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। ফলে নতুন করে ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি হারানোর চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তিন গ্রামের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের। অন্যদিকে আকস্মিক এই বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকদের আমন ধানের বীজতলা।
আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর জেলার গঙ্গাচড়ার তালপট্টি নরশিং এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে তীর সংরক্ষণকাজ করা হয়েছিল। এই বাঁধটি নির্মাণ হওয়ায় যাতায়াত সুবিধাসহ বুকভরা আশা নিয়ে শান্তিতে থাকার স্বপ্ন বুনেছিলেন তিন গ্রামের মানুষ। কিন্তু সাম্প্রতিক তিস্তার তীব্র স্রোতে সেই বাঁধেরই একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরেই তিস্তার পানি দ্রুত ওঠানামা করছে। আকস্মিক বন্যা, তীব্র স্রোত এবং হঠাৎ পানি কমে যাওয়ার কারণে নদীতীরজুড়ে এই ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে দেড় হাজার পরিবারের বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বিলীনের চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
পশ্চিম হরিণচড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল কাদের আক্ষেপ করে বলেন, “বাঁধ হইতে না হইতেই কয় মাসের মাথায় সেটাও নদীত চলি গেইল, এইবার হামারগুলার মরণ ছাড়া কোন বুদ্দি (উপায়) নাই।”
তালপট্টি এলাকার রুকনুজ্জামান বলেন, “বাঁধ দেওয়ার পর বসতভিটায় টিকি থাকার স্বপ্ন দেকচেনো। সেই বাঁধও ভাঙ্গি গেইল। এ্যালা এ্যাটে থাকি চলি যাওয়া ছাড়া হামার আর কোনো পথ নাই।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিত, তাহলে হয়তো এই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “কয়েক দিন ধরে ওই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। খবর পাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে সেখানে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের কাজ চালু করা হয়েছে এবং কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে আরও জিও ব্যাগ ফেলা হবে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পিডিএস/এমএইউ









































