বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

জলকদর খালকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বাঁশখালীতে ত্রাণমন্ত্রী

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বাঁশখালীতে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করবে সরকার। একই সঙ্গে দেশের প্রধান প্রধান ৫০টি খাল খনন উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী জলকদর খালকে সংস্কার করে একটি ‘মডেল খাল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টায় তিনি উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের ডোংরা এলাকার পালোয়ান পাড়া খাল খনন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বন্যাকবলিত মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং তাঁদের দুর্ভোগের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

সমন্বিত পুনর্বাসন ও কৃষিতে গুরুত্ব ত্রাণমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি এখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কৃষি পুনরুদ্ধার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে উঁচু স্থানে যৌথ বীজতলা তৈরি, প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে আগামী মৌসুমে খাদ্য উৎপাদনে কোনো প্রভাব না পড়ে। বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকার এই খালগুলো সংস্কার না করায় দীর্ঘমেয়াদি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাল সংস্কারের মাধ্যমে এই অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটানো হবে।

পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রী স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলার চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার তথ্য ও তদারকি নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল হক মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।

এ ছাড়া বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর ফারুক, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়