শাহ এস এম ফরিদ, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর
কুশিয়ারায় বালু উত্তোলন চলছেই ভাঙন আতঙ্কে পাড়বাসী

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার অংশে পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর, নতুন কসবা গ্রামসহ কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় চলছে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন। কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন ও পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু আনলোড বন্ধ করে এলাকার পরিবেশ রক্ষা করার জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেও এলাকা রক্ষা করা যাচ্ছে না। গত দুই সপ্তাহ ধরে মা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কোম্পানি জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের অলৈতলী ও খানপুর মৌজার অংশে রাতের আঁধারে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত স্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে।
অপরিকল্পিত ও পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে কুশিয়ারা নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করায় এলাকার নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। জালালপুর, খানপুর, পূর্ব জালালপুর, নতুন কসবাসহ এলাকাবাসীকে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে এবং অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য গত ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জালালপুর গ্রামের জাহির আলী বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। এর আগে বালু উত্তোলন বন্ধে আইনি প্রতিকার চেয়ে বিগত ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ইন্টিগ্রিটি ল চেম্বার্স থেকে অ্যাডভোকেট বিপ্লব কুমার পোদ্দার, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর লিগ্যাল নোটিস প্রেরণ করেন। লিগ্যাল নোটিসের পরও বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদীর তীর সংরক্ষণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়।
২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের বেঞ্চে এই রিট পিটিশনের শুনানি হয়। হাইকোর্ট বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ ও পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটকে বালু উত্তোলন বন্ধে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু হাইকোর্টের এই আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের অলৈতলী ও খানপুর মৌজার অংশে কুশিয়ারা নদীর তলদেশ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এদিকে ইন্টিগ্রিটি ল চেম্বার্সের লিগ্যাল নোটিসের জবাবে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ২৪ মে কুশিয়ারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বিষয়ে প্রতিবেদনের অনুলিপি প্রেরণ করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, কুশিয়ারা নদীর জগন্নাথপুর উপজেলার অংশে কোনো বালুমহাল নেই, জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদী হতে বালু উত্তোলনের জন্য কারো কোনো বৈধ অনুমতি নেই।
হাইকোর্টে রিটকারী জালালপুর গ্রামের জাহির আলী বলেন, কুশিয়ারা নদীর ভাঙন থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু বন্ধের জন্য উচ্চ আদালতে গিয়েও এলাকা রক্ষা করা যাচ্ছে না, হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করেনি প্রশাসন। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের অংশে মা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কোম্পানির তফসিলভুক্ত জায়গায় বালু উত্তোলনের অনুমোদন আছে।
"






































