আবদুর রউফ, ধামরাই (ঢাকা)

  ১৩ ঘণ্টা আগে

ঢাকার ধামরাই

মালচিং পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষে কালামের ভাগ্যবদল

বিষমুক্ত সবজি চাষের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ২০ শতাংশ জমি থেকে বর্তমানে ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আবুল কালাম। সবজি চাষে পরিবর্তন করেছেন নিজের ভাগ্য। একজন সফল সবজি চাষি আবুল কালাম। শুধু তাই নয়, বর্তমানে তার সবজির জমিতে বেশকিছু কৃষক কাজ করেন প্রতিদিন। ৬শ টাকা হাজিরাতে কাজ করেন তারা। আবুল কালাম নিজের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি অন্যের কর্মসংস্থানের জায়গা করে দিয়েছেন। আধুনিক বিষমুক্ত সবজি চাষে সফল আবুল কালাম। পুরোনো পদ্ধতিকে বিদায় জানিয়ে আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অধিক ফসল উৎপাদন করছেন সফল এই চাষি আবুল কালাম। এতে একদিকে সবজির উৎপাদন বেশি অপরদিকে আয়ও বেশি।

ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায়। মালচিং পদ্ধতিতে বিষমুক্ত আধুনিক সবজি চাষে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম। আবুল কালামের জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে মাটির ওপর মালচিং পেপারসহ নানা ধরনের সহযোগিতা করেন। মালচিং পদ্ধতির কারণে জমিতে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ অনেক কম হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে সেচ ও জৈবসার ব্যবহারের কারণে উৎপাদন সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে অনেক গুণ বেশি ফলন হয়।

এর আগে কৃষক আবুল কালামকে মালচিং পদ্ধতিতে একটি জমি এবং মালচিং ছাড়া একটি জমিতে করলা চাষ শুরু করেছিল। দেখা যায়, মালচিং ছাড়া জমিতে মাত্র ২০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। আর মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে জমিতে প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করেছেন। মালচিং পদ্ধতিতে খরচ কম, পোকার আক্রমণও কম কিন্তু উৎপাদন অনেক বেশি। কৃষক আবুল কালাম রাসায়নিক সার ব্যবহার বন্ধ করে মালচিং পদ্ধতিতে জৈবসার ব্যবহার করেন। সেই সঙ্গে সবজির জমিতে তিনি সরিষার খৈল ব্যবহার করে থাকেন। এতে সবজি দেখতে সুন্দর চিকচিকে এবং স্বাস্থ্যসম্মত। বাজারে দামও অনেক বেশি। এই বছর আবুল কালাম ১২ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সবজি চাষ করেছেন।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, একই জমিতে সারা বছর কিভাবে সবজি চাষ করা যায় সেদিকে পরামর্শ দেওয়া হয়। রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে কিভাবে জৈবসার ব্যবহার করে বেশি ফলন পাওয়া যায় তা নিয়ে কাজ করে।

কৃষক আবুল কালাম বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে আজ আমি অনেক ভালো আছি। আমি প্রথমে ২০ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ শুরু করেছিলাম। সেখান থেকে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে মালচিং পদ্ধতিতে ১২ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করে আজ আমার ভাগ্য বদল হয়েছে। সেই সঙ্গে ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ মিটিয়ে, আমি আমার পরিবার নিয়ে অনেক ভালো আছি।

ধামরাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের ফলে আগাছা পরিষ্কার করতে সুবিধা হয়। সেই সঙ্গে বৃষ্টির পানিতে গাছগুলো নষ্ট হয় না। বর্তমানে কৃষকেরা মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে এগিয়ে যাচ্ছে। সামনের বছর আরো বেশি কৃষকের মাঝে এই পদ্ধতি ব্যবহার করবে বলে আশা প্রকাশ করছি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়