শেখ মো. ইব্রাহীম, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল
সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে গ্রামবাসীদের ভোগান্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের অবহেলিত ক্ষমতাপুর। বুড্ডা তিতাস নদীর পাশ ঘেঁষে গ্রামটির অবস্থান। একদিকে তিতাস নদী, অপরদিকে শাপলা বিল। নদীর বাঁকে বাঁকে গ্রামটির অবস্থান। দেখতে ধনুকের মতো বাঁকা, নয়নাভিরাম ছবির মতো। শুষ্ক মৌসুমে সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। তবে ভৌগোলিকভাবে গ্রামটি বছরের বেশিরভাগ সময় পানিবেষ্টিত থাকে। সারা বছর যোগাযোগে নৌকাই একমাত্র ভরসা। বর্তমানে গ্রামটিতে ২০০ পরিবার বসবাস করছে। তবে বাধ্য হয়ে গ্রাম ছাড়ছেন অনেকেই। দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার ভোগান্তি থেকে বাঁচতে অনেকেই বসতি গড়েছেন নদীর দক্ষিণ পাড়ের বুড্ডা গ্রামে। গ্রামটিতে আগে অনেক পরিবার বসবার করলেও যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় নানা প্রতিকূলতার কারণে দিন দিন পরিবারের সংখ্যা কমে আসছে।
শাপলা বিলসহ এই বিশাল হাওরের হাজার হাজার একর জমির ফসল পরিবহনে যুগ যুগ ধরে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের। কাঁধে করে, নৌকায় তুলে ঘরে তুলতে হয় হাওরের ফসল। সেতু নির্মাণ হলে যুগ যুগ ধরে সীমাহীন ভোগান্তির অবসান হবে, হাসি ফুটবে কৃষকের মুখে। এ ছাড়াও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাময় বাঁকে প্রতিদিন ঘুরতে আসা প্রকৃতিপ্রেমীদের যাতায়াতের সুবিধাও হবে।
সরাইল উপজেলার একমাত্র বাণিজ্যিক তিতাস অ্যাগ্রো ফার্মের ড্রাগন বাগান নদীর দক্ষিণ পাড়ে। কাসিম খাঁর বাজার (বুড্ডাঘাট), মৎস্য আড়ৎসহ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
ক্ষমতাপুর গ্রামের বাসিন্দা সফিউল্লাহ মিয়া, ছান্দু মিয়া, আবদুল জলিল, আলেক শাহ ও অহিদ হোসেন জানান, প্রায় দেড়শ বছরের আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা শাহবাজপুর মোড়াহাটি ও নিয়ামতউল্লাহ পাড়া থেকে এসে মৎস্য আহরণ ও কৃষি কাজের সুবিধার্থে প্রথমে অস্থায়ীভাবে বাথান ঘর, ধানের খলা ও পরে স্থায়ী বসতি গড়েন। বর্তমানে গ্রামটিতে প্রায় ২০০ পরিবার বাস করেন। গ্রামে একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষে অনেক শিক্ষার্থী দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ে। কৃষিপ্রধান গ্রাম হলেও মৎস্য খাত থেকেও উপার্জন হয়। প্রতিটি পরিবার বর্ষাকালে গড়ে দৈনিক ২-৩ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয়। নৌকা আমাদের আয়ের উৎস। মাছ ও ধানে ভরা এই সবুজে সবুজে ঘেরা সুখের স্বপ্ন ফেলে গ্রাম ছেড়ে যেতে মন চায় না।
বুড্ডা গ্রামের কৃষক আনিছ মৃধা, স্বপন দাস, শহীদ মিয়া, দুলাল বাহাদুর এবং কুচনী গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া, নারায়ণ দাস বলেন, নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে শাপলা বিলের ফসল আনতে আমাদের কষ্ট হয়।
এ বিষয়ে শাহবাজপুর ইউপি সদস্য আরিজ মিয়া বলেন, গ্রামটি ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ ও যাতায়াত সুবিধার জন্য তিতাস নদীর ওপর সেতু নির্মাণ জরুরি।
নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ জানান, নদী ও হাওরবেষ্টিত ক্ষমতাপুর গ্রামটি ভৌগোলিকভাবে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের জমি রয়েছে শাপলা বিলে। চাষাবাদের জন্য যাতায়াত ও ফসল ঘরে তোলার জন্য বুড্ডা তিতাস নদীর ওপরে সেতু নির্মাণ দীর্ঘদিনের দাবি।
উপজেলা (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, বুড্ডা-ক্ষমতাপুরের পাশ ঘেঁষা তিতাস নদীর ওপর সেতু নির্মাণে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবনা দাখিল করা হয়েছে। যদি অনুমোদন হয়ে আসে পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।
"





































