গাজী মোঃ শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ফেরিওয়ালার কদর বাড়ছে সিরাজগঞ্জে

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

সিরাজগঞ্জে হরেক মালের কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে। জেলার কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, কাজিপুর তাড়াশ সহ প্রতিটি উপজেলায় সংসার চালাতে হরেক রকমের মাল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকে। বিশেষ করে, গ্রামাঞ্চলের নারী ও শিশুদের কাছে কানের দুল, গলার চেইন, চুড়ি, চিরুনি, চুল বাঁধার ফিতা, ক্লিপ, মাথার ব্যান্ড,লিপিস্টিক, আয়না, সিদুর, বিভিন্ন চকলেট. বিস্কুট ও নখের নেইলপলিশের বেশ চাহিদা রয়েছে। কামারখন্দের হামিদা বেগম, সুফিয়া বেগম সহ স্থানীয়রা জানায়, শহরের দোকানগুলোর চাইতে হরেক মাল বিক্রেতাদের পণ্যসামগ্রীর দাম কম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজিপুরের পিপুলপাড়িয়া গ্রামের হিন্দু পাড়ার কয়েকজন গৃহবধূ হরেক মালের দোকান থেকে কানের দুল ও চুড়ি, মালা কিনছেন। তাড়াশের মাকড়শন গ্রামের সড়কের পাশে আরেক স্কুল ছাত্রীকে চুলের ক্লিপ কিনতে দেখা যায়।

বেলকুচির চকনলুয়া, মোকন্দগাতী, সোহাগপুর হিন্দু পাড়ার গৃহবধূ দিপালী, সুন্দরী, লক্ষী রানী ও সুবর্ণসাড়া গ্রামের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মিতা বলে, আমরা শহরে কেনাকটা করতে যাই না। ওসব দোকানের জিনিসের দাম বেশি। সাধারণত হরেক মালের বিক্রেতারা বাড়ির কাছে যখন আসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নেই। শহরের দোকানে যাওয়া-আসায় যে টাকা পরিবহন খরচ হয়, সে টাকা দিয়ে ঘরে বসেই হরেক রকমের মাল কেনা যায়।

জানা গেছে, নাটোরের গুরুদাসপুর ও নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার প্রায় ৩০ জন ব্যবসায়ী তাড়াশে হরেক মাল বিক্রি করেন উল্লেখিত এলাকায়। এসব ব্যবসায়ীরা বগুড়া ও উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ শহর থেকে হরেক পদের সামগ্রী পাইকারি দরে কিনে আনেন। পরে প্রত্যন্ত গ্রামে-গ্রামে ঘুরে খুচরা দামে বিক্রি করেন। রাতের বেলায় এরা একত্রিত হয়ে কোন স্কুল বা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় রাত্রি যাপন করেন।

হরেক মালের ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল, খায়ের হোসেন ও আব্দুল মমিন বলেন, দির্ঘদিন থেকে এসব এলাকায় তারা ব্যবসা করে আসছেন । হরেক পদের জিনিস বেচে তাদের মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা রোজগার হয়। যা দিয়ে কষ্ট হলেও সংসারের খরচ মিটানো হয়।

গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের অপর ব্যবসায়ী সুফিয়া ও তার স্বামী শাহআলম জানায়, আমরা স্বামী স্ত্রী হরেক মালের ব্যবসা করেই সংসারের ব্যয় ভার,ছেলে মেয়ে পড়াশোনা খরচও চালিয়ে থাকি।

উল্লেখ্য, বিক্রেতারা পলিথিনের মধ্যে হরেক রকমের পণ্য সেফটিপিন দিয়ে আটকে কাঁধে নিয়ে পায়ে হেঁটে চলে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে। ছোটো মাইকে তাদের হাঁক-ডাকে শোনা যায়, মা-বোনরা না নিলেও দেইখা যান- কার লাগবে কানের দুল, গলার চেইন, হাতের চুড়ি, মাথা আঁচড়ানো চিরুনি, চুল বাঁধা ফিতা, চুলের ক্লিপ, মাথার ব্যান ও নখের নেইলপলিশ। আমার কাছে চলে আসুন। আমরা কম দামে অরিজিনাল মাল বিক্রি করে থাকি।

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ ম্ক্তুা বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু হরেক মালের কদর কমেনি। গ্রামীণ জীবনে হরেক মালের কদর আগেও ছিল, এখনও রয়েছে।

তাছাড়াও কামারখন্দ উপজেলা এস এম শহিদুল্লাহ সবুজ (সাবেক চেয়ারম্যন) বলেন, ক্রমান্বয়ে দেশের উন্নয়নের পাশাপশি মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন হয়েছে। বেড়েছে তাদের ক্রয় ক্ষমতা। কিন্তু গ্রামীণ জীবনে নিম্ন মধ্য আয়ের মানুষের মাঝে বিশেষ করে শিশুদের মাঝে হরেক মালের কদর আগের মতই চলমান রয়েছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ফেরিওয়ালা,সিরাজগঞ্জ
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়