কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

  ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

অপপ্রচারের প্রতিবাদে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি'র বিরুদ্ধে একটি মহলের অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহাম্মেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, পদবঞ্চিত নেতারা বলছেন "বিএনপি নেতাদের চাঁদাবাজির কারনে চালের দাম বৃদ্ধি", কুষ্টিয়ায় লালন বিজ্ঞান ও কলা বিশ্ববিদ্যালয় জেলা বিএনপি নেতাদের দখলে নেওয়া ও স্থানীয় মদ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসিক চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সহ নানান অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এর কোন প্রমান নেই।

লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, পদবঞ্চিত ব্যানারে জেলা বিএনপি'র দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে ডাহা মিথ্যাচার করা হচ্ছে। তারা বলছে জেলা বিএনপি'র দায়িত্বশীল নেতারা কুষ্টিয়ায় চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করার জন্য চালের দাম বেড়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি কোন চালকল মালিক যদি বলতে পারে আমরা তাদের কাছে চাঁদা চেয়েছি তাহলে আমরা দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াবো। আপনারা চালকল মালিকদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন জেলা বিএনপির কোন নেতা বা কর্মী তাদের কাছে চাঁদা চেয়েছে। চাঁদা নেয়ার জন্য যদি কুষ্টিয়াতে চালের দাম বাড়ে তা হলে সারা দেশে চালের দাম বাড়লো কেন? তা হলে কি জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা সারা দেশে চালকল মালিকদের কাছে চাঁদাবাজি করেছে?

এসময় সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, তাদের দাবী গৌতম চাকির মদের দোকান থেকে জেলা বিএনপি'র নামে মাসে দুই লক্ষ করে টাকা নেয়া হয়। গৌতম চাকির কাছে প্রশ্ন করুন জেলা বিএনপি'র নামে তার কাছে থেকে কোন টাকা পয়সা নেয়া হয় কিনা? মিথ্যাচারের সীমা থাকা উচিৎ।

তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচারের শাসনামলে কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠিত লালন বিজ্ঞান ও কলা বিশ্ববিদ্যালয়ে হানিফের স্ত্রীকে বাদ দিয়ে ট্রাষ্টি বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। সেখানে জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক ও আমি মালিকানা নিয়েছি। যার সাথে বিন্দু মাত্র সংশ্রব নেই আমাদের। আমরা আপনাদের অনুরোধ জানাবো সাংবাদিক হিসেবে আপনার অনুসন্ধান করে দেখুন। ওনাদের বক্তব্যের কোন সত্যতা পান কিনা?

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, স্বৈরাচারের আমলে জেলার শত শত বিএনপি'র নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় কেউ কেউ কারাগারে আবার অনেকেই পলাতক থেকে মানবেতর জীবন যাপন করেছে। স্বৈরাচারের দোসররা তাদের উপর চালিয়েছে অকথ্য নির্যাতন। সেদিন তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করার কেউ ছিল না। আমরা সেদিন নিজেরা বিপদে থেকেও সাধ্যমত বিপদগ্রস্থ নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার দাবি করেন, বর্তমানে যারা নিজেদের পদবঞ্চিত বলে দাবি করছেন তারা প্রত্যেকেই পদে আছেন। তাদের ইচ্ছামত পদে না দেওয়ার কারণে তারা নিজেরা নিজেদেরকে পদবঞ্চিত বলে দাবি করছেন। জেলার আহবায়ক কমিটি দেওয়া হয় কেন্দ্র থেকে এখানে জেলার কোন হাত থাকে না।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপি'র আহবায়ক ও সদস্য সচিব বলেন, এমন নির্লজ্জ অপপ্রচার না চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে দলীয় শৃংখলা মেনে আগামী দিনের জন্য অপেক্ষা করারও অনুরোধ জানাচ্ছি।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়