গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার লোকবাদ্যযন্ত্র-ঢোল

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

বাংলাদেশের ঢোল ছিল একটি প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র। মধ্যযুগের বিভিন্ন মঙ্গলকাব্যেও ঢোলের উল্লেখ পাওয়া যায়। গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে পহেলা বৈশাখের লাঠিখেলা, হোলি খেলা, নৌকাবাইচ, কুস্তি, কবিগানের আসর, জারিগান, সারিগান, টপ্পাগান, গম্ভীরা, ছোকরা নাচ, বাউলগান, মহররমের শোভাযাত্রা, যাত্রাগান, বিয়ের বরযাত্রা ইত্যাদিতে বাজতো ঢোলের টাকডুম শব্দ। আর এই টাকডুম- টাকডুম আওয়াজ শুনলেই বোঝা যায় কোথাও ঢোল বাজছে। ঢোল আর ঢাক একই জিনিস।

একটি খোদাই করা কাঠের উভয় দিকে চামড়া দিয়ে ঢেকে এই ঢোল তৈরি করা হয়। ঢোল পেঁপের মতো একটা কাঠের খোলবিশেষ, যার দুই মুখ খোলা, ভেতরটা ফাঁপা। দু’দিকে চামড়া দিয়ে ঢেকে দেয়া। একমুখে থাকে গরু বা মহিষের মোটা চামড়া অন্যদিকে থাকে ছাগলের পাতলা চামড়া। এতে মোটা ও চিকন শব্দে তালে তালে ঢোল বাজে। ঢোলের খোলটির পিঠে দড়ির টানা থাকে। এই টানাতে পিতলের কড়া লাগানো থাকে। কড়া সামনে বা পেছনে টেনে ঢোলের সুর বাঁধা হয়। ঢোলের খোলটা মাঝখানে একটু মোটা, দুই প্রান্ত একটু সরু।

আর ঢোলের বাদককে বলা হতো ঢুলি । ঢুলিরা সাধারণত ঢোলের দু’দিকে মোটা রশি বা গামছা বেঁধে গলায় ঝুলিয়ে ঢোল বাজাতো। ঢোল বাজাতে ডান হাতে একটি কাঠি ব্যবহার করা হতো। বাম হাতের তালু দিয়ে অন্যপ্রান্ত বাজানো হয়। ঢুলিরা ঢোলের ডান দিক কাঠির বাড়িতে এবং একই সঙ্গে হাতের চাটিতে বাম দিকে ঢোল বাজিয়ে থাকেন।

অতীতে সরকারি কোনো আদেশ বা পরোয়ানা ঢোল পিটিয়ে বিভিন্ন হাটে-বাজারে ঘোষণা করা হতো। তা ছাড়াও যাত্রাগান, খেলা, মেলা, নৌকাবাইচ, হারানো বিজ্ঞপ্তি ঢোল বাজিয়ে প্রচার করা হতো। কারণ ঢোলের আওয়াজ বহু দূর থেকে শ্রুত হয়।

কিন্তু কালের আবর্তে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় সে দিনের সেই ঢোলের স্থান আজ সাউন্ড বক্স,মাইক, ঢুগি তবলা, গিটার সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র দখল করে নিলেও সনাতন ধর্মালম্বীদের বিভিন্ন পূজা পার্বন ঢোল ছাড়া চলে না বলে জানান,পুরোহিত অশোক কুমার।তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে দুর্গাপূজা ও কালীপূজায় ঢোল বাজানো হয়। এ দেশের হিন্দু, মুসলমান, আদিবাসী নির্বিশেষে বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে ঢোল আজও ব্যবহার করে থাকে বলে জানা যায়।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
পূজা,ঢোল,ঢুলি,সিরাজগঞ্জ
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়