আব্দুস শুক্কুর, গোয়াইনঘাট (সিলেট)
গোয়াইনঘাটে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

সিলেটের গোয়াইনঘাটে একটি ব্রিজের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার করছে স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও মক্তবের কয়েকশত শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।
উপজেলার পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পাঁচপাড়া (তুড়গ্রাম) খালের উপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ এ বাঁশের সাঁকোটি খালের দুই পারের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ এ বাঁশের সাঁকোর স্থানে অতি দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, উপজেলার গারো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোওর বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপাড়া মাদরাসাসহ মসজিদে সকালের মক্তবে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের একটি বড় অংশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে থাকে। এছাড়া গ্রামবাসী চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে উপজেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী কোওর বাজার এবং ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের জন্য এই সাঁকোটি ব্যবহার করে থাকেন। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও পড়তে হয় ভোগান্তিতে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
স্থানীয় সংবাদকর্মী রিয়াজুল ইসলাম জানান, 'সাঁকোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও অবিভাবকরা বাধ্য হয়ে ছেলে মেয়েদের এই বাঁশের সাঁকো পার করে স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠান। বর্ষাকালে কষ্টের সীমা থাকেনা। খালের দুপারেই গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য মাটির রাস্তা রয়েছে, শুধু নেই সংযোগ ব্রীজ। খালের দু'পারের মানুষের চলাচলের ভোগান্তি লাঘবে এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণ খুবই জরুরী।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকোটি পারাপার হতে তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী পা পিছলে সাঁকো থেকে খালের পানিতে পড়ে বইপত্র নষ্ট ও আহত হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকোর স্থানে এখনও ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়নি।
আলীরগাঁও ইউনিয়নের মুখলেছ জানান, এখানে একটি ব্রিজ তৈরি করলে গ্রামবাসী অনেক উপকৃত হবেন।
১০নং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আলিম উদ্দিন বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে জরাজীর্ণ এই বাঁশের সাঁকোটির পরিবর্তে এখানে ব্রীজ নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
গোয়াইনঘাট এলজিইডির কার্যালয়ের প্রকৌশলী হাসিব আহমেদ বলেন, সরেজমিন গিয়ে এলজিইডির আওতাভুক্ত কি না তা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যদি এলজিইডির আওতায় নাও থাকে তা হলে এলাকাবাসীর দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাটের ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, সাঁকোটি সরেজমিন পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পিডিএস/এমএইউ









































