সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

  ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

সুবর্ণচরে ডেভিল হান্টে দস্যু নেতা সফি বাতাইন্না গ্রেপ্তার

সুবর্ণচরের শীর্ষ সন্ত্রাসী, বনদস্যু, জলদস্যু ও ভূমিদস্যু এবং একাধিক মামলার আসামি আবুল কালাম ওরফে সফি বাতাইন্নাকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ডেভিল হান্ট-ছবি: প্রতিদিনের সংবাদ

নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা সুবর্ণচরের শীর্ষ সন্ত্রাসী, বনদস্যু, জলদস্যু ও ভূমিদস্যু এবং একাধিক মামলার আসামি আবুল কালাম ওরফে সফি বাতাইন্নাকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ডেভিল হান্ট।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারী) বুধবার ভোর রাতের কোনো এক সময় সুবর্ণচরের চরজুবিলী ইউনিয়নের চর জিয়াউদ্দিন গ্রামে তার আস্তানা সফি নগর থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার সাথে থাকা ৪র্থ স্ত্রী হাসিনা বেগমকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী।

এসময় তার কাছ থেকে ১ দেশীয় রামদা ও ১ চাকু পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, আবুল কালাম সফি নাম প্রকাশ সফি বাতাইন্না দুই যুগের বেশি সময় ধরে নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছিল। এ অঞ্চলে ২০০০ সালের দিকে দক্ষিণের সব থেকে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চাল উজাড় করে গড়ে তুলেছিল অপরাধের সাম্রাজ্য। চুরি, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ, খাস জমি দখল করে বিক্রিসহ অসামাজিক কর্মকান্ড ছিল তার নিত্য দিনের কাজ।

তৎকালীন সময়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ২০০৩ সালের দিকে সে গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তীতে জামিনে এসে আবার সংগঠিত হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ে হয়ে ওঠেন ভূমিহীন নেতা। এতে তার সঙ্গে প্রধান কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তার জামাতা কুখ্যাত সন্ত্রাসী একাধিক হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি মামলার আসামি জসিম উদ্দিন রায়হান ওরফে রানা বাহিনী।

পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনকে জিম্মি করে রানা হয়ে যায় ইউপি মেম্বার। শশুর জামাই মিলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আশ্রয়ে গড়ে তুলে নিজেদের আধিপত্যের স্বর্গরাজ্য। বিগত ১৫ বছরের আওয়ামী শাসন আমলে তাদেকে গ্রেপ্তার করতে সাহস করেনি পুলিশ। এমনকি তাদেরকে ধরতে পুলিশ তার এলাকায় গেলেই মসজিদের মাইকে ডাকাত ডাকাত বলে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর ঝাপিয়ে পড়ত। আবার আওয়ামী লীগের নেতাদের হুমকিও মোকাবিলা করতে হতো প্রশাসনকে। এভাবে তখনকার সময়ে নানা অপরাধ করে তারা বেঁচে গিয়েছে। তার অত্যাচারে নির্যাতিত ও ভুক্তভোগী খামার মালিক জয়নাল আবেদীন জানান, বিগত ২০০২ সালে আমাদের তিল তিল করে গড়ে তোলা গরুর খামার থেকে ৩৮ টি গরু ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তার কাছে গরুগুলো ফেরত আনতে গেলে আমাদের আটকে রেখে উল্টো নগদ টাকা আদায় করে আমাদের ছাড়ে। সেই সঙ্গে প্রাণ নাশেরও ভয় দেখায়। আমরা প্রাণের ভয়ে আর গরুর জন্য যেতে পারিনি। আমরা তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

আটককৃত সফির ব্যাপারে চরজব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন মিয়া জানান, 'একাধিক মামলার আসামি সফিকে গ্রেপ্তারের জন্য তার আস্তানায় অভিযান দিলে তার অনুসারীরা মসজিদের মাইকে ডাকাত ডাকাত বলে যৌথ বাহিনীকে হামলা করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে তাকে সু-কৌশলে তার স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ভুমিদখল, আগ্নেয়াস্ত্র ও বন মামলা রয়েছে। চরজব্বার থানা ছাড়াও একাধিক থানায় মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। সফিকে এবং তার স্ত্রী হাসিনা বেগমকে অস্ত্র মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।'

দীর্ঘদিন পরে হলেও শীর্ষ সন্ত্রাসী শফি বাতাইন্নাকে গ্রেপ্তার করা হলে খুশি হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার এবং উপজেলাবাসী।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
নোয়াখালীর সুবর্ণচর,ডেভিল হান্ট,গ্রেপ্তার,শীর্ষ সন্ত্রাসী
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়