আহমেদ রেজওয়ান, ফেনী
নানা সমস্যায় জর্জরিত ভাষা শহীদ সালাম গ্ৰন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য বুকে বুলেট পেতে যে কয়জন শহীদ হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ভাষা শহীদ আবদুস সালাম। তার এ মহান আÍত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে তার নিজ গ্ৰামের নামকরণ করা হয় সালামনগর ও প্রতিষ্ঠা করা হয় স্মৃতি জাদুঘর। ফেব্রুয়ারি মাস এলেই দেশের নানান প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান সালামের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাম ও স্মৃতি জাদুঘর দেখতে। এ সময় সংশ্লিষ্ট মহলের নানামুখী কর্মকর্তা দেখা গেলেও পরবর্তীতে নিস্তব্ধ হয়ে যায় সালামনগর ও স্মৃতি জাদুঘরটি।
ফেনীর দাগনভূঞায় কামাল আতাতুক উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন তিনি। বায়ান্নর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় গেলে শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলে অংশ নিলে পুলিশের গুলিতে মারাÍক আহত হন। প্রায় দেড় মাস ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা শেষে মৃত্যুর কাছে হার মানেন।
২০০৮ সালে এ ভাষা শহীদের স্মরণে তার গ্ৰামের বাড়িতে নির্মাণ করা হয় শহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। গ্ৰন্থাগার ও জাদুঘরটি দেখাশোনায় ফেনী জেলা পরিষদ থেকে মাস্টাররোলে একজন লাইব্রেরিয়ান ও কেয়ারটেকার দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় নানা সমস্যায় জর্জরিত গ্রন্থাগারটি আজ ভঙ্গুর দশা।
এছাড়া বিগত জুলাই আগস্ট এর ভয়াবহ বন্যায় ডুবে গিয়ে গ্রন্থাগার ও জাদুঘরের বই, তাকসহ নানা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পরবর্তীতে মেরামত হয়নি। এতে গ্রন্থাগার ও জাদুঘরের পাঠক দর্শনার্থী নেই বললেই চলে। ফলে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছে ভাষা শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রতিষ্ঠিত স্মৃতি জাদুঘরটি।
গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান লুৎফর রহমান বাবলুর জানান, বন্যা পরবর্তী ভিজে যাওয়া বই রোদে শুকিয়ে বই কিছুটা পাঠযোগ্য করা হয়। কিন্তু তাক নষ্ট হয়ে যাওয়া বইগুলো টেবিলের উপর বিছিয়ে রাখতে হয়েছে। তিনি দর্শনার্থী ও পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলেন, পাঠকরা আসুক, তাদের কোন বই পছন্দ তারা বলুক, আমরা সেভাবে বইয়ের ব্যবস্থা করব।
স্থানীয় সমাজসেবক হারিস আহমদ পেয়ার মেম্বার জানান, সালাম নগরের আসার রাস্তাগুলো চলাচলের উপযুক্ত করা দরকার। সালামের ভাই আবদুল করিম অসুস্থ, তার চিকিৎসা দরকার। নানা সমস্যায় জর্জরিত গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটির সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) দাগনভূঞা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক কাজী ইফতেখারুল আলম বলেন, শুধু আশ্বাস নয়, নতুন প্রজন্মকে ভাষা শহীদ সম্পর্কে জানান দিতে কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।
শহীদ আবদুস সালামের ভাই সুবেদার (অব) আবদুল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, আমি বর্তমানে অসুস্থ। সালাম পরিবার থেকে আমার মেয়েকে একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কেউ তা বাস্তবায়ন করেনি। সালাম নগর ও স্মৃতি জাদুঘর রক্ষা এবং গণমুখী করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম স ম আজহারুল ইসলাম জানান, সরেজমিন সালাম নগরের বিস্তারিত অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।
পিডিএস/এমএইউ









































