সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

  ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

বেলকুচিতে স্কুলে প্রবেশে বাধা, বখাটের ছুরিকাঘাতে ৫ শিক্ষার্থী আহত

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচির রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বখাটেকে স্কুলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় দারোয়ানের সাথে ঝগড়ার জের ধরে মারপিট ও চাকুর আঘাতে বিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর মধ্যে গলায় ছুরিকাঘাত প্রাপ্ত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভ (১৪)-কে প্রথমে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ও পরে রবিবার রাতে ঢাকার হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, অভিযুক্ত আটক আজিম আকন্দকে পুলিশ ছেড়ে দেয়ায় থানার ওসি জাকেরিয়া হোসেনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা।

সিরাজগঞ্জ বিএল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ও সমেষপুর গ্রামের সোনাউল্লার ছেলে আজিম আকন্দ (১৪) ধারালো ছুরি নিয়ে এ হামলা চালায়। তাকে বিক্ষুব্ধ জনতা আটকের পর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে রাতে পুলিশ শিশু-কিশোর বলে ছেড়ে দেয়। দায়ীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপে বেলকুচি থানার ওসির বিরুদ্ধে গড়িমাসির অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে রবিবার বিদ্যালয়ের ফটকে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়াকে মোটরবাইকে নিয়ে স্কুলে আসে বড় ভাই আজিম আকন্দ। স্কুলে অ্যাসেম্বলি চলার সময় প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ অনুযায়ী ফটকে দায়োয়ান আব্দুল আউয়াল মোটরসাইকেল নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে না দিলেই শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। পরে সেখান থেকে বাড়ি এসে আবার স্কুলে পুনরায় প্রবেশ করা মাত্রই দারোয়ানের সাথে বাকবিতণ্ডার সময় কয়েকজন ছাত্র এসে প্রতিবাদ করলে আজিমের সাথে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ৫ শিক্ষার্থীকে আঘাত করে। সবাই তখন আহত হলে স্থানীয়রা আজিমকে আটক ও আহতদের সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। এর মধ্যে গলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত শুভ শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, আটক আজিম আকন্দকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। পরে আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও রাতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দারোয়ন আব্দুল আউয়াল জানান, আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এদিকে রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন ও এলাকার কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য পুরোপুরি আজিম দায়ী। স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই দারোয়ান মোটরসাইকেল নিয়ে আজিমকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেয়নি। এই ক্ষোভ থেকে সে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকেরিয়া হোসেন জানান, ওই ঘটনায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিমকে থানায় আনা হলেও শিশু-কিশোর হওয়ায় তাকে জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সিরাজগঞ্জ,বেলকুচি,ছুরিকাঘাত,শিক্ষার্থী
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়