আবদুুল করিম, লালপুর (নাটোর)

  ৪ ঘণ্টা আগে

নাটোরের লালপুর

দ্রুত ছড়াচ্ছে লাম্পি স্কিন, দুই মাসে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যু

নাটোরের লালপুর উপজেলার প্রায় ২০ হাজার গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত । গত দুই মাসে এই রোগে প্রায় অর্ধশত গরুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা বাড়ছে। খামারিদের অসচেতনতা ও লাম্পি স্কিন রোগের টিকার পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলায় দেড় লাখ গরু পালন হলেও সরকারি টিকার বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৫০ ডোজ। প্রাণিসম্পদ অফিসের দাবি সরকারি বরাদ্দের ৩৫০ ডোজ ছাড়াও বেসরকারিভাবে প্রায় ১৮ হাজার পশুকে টিকার আওতায় আনা গেছে। বাকি গরুর খুদ্র খামারিদের ল্যাম্পি স্ক্যান রোগের টিকা প্রয়োগে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করেও কোরেনা ফল হয়নি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২১ সালে সর্বপ্রথম লালপুরে এই রোগ সংক্রমণ হয়েছে। উপজেলায় মোট এক লাখ ৫৩ হাজার ৪২২টি গরুর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার গরু ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাত্র ৩৫০ ডোজ টিকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গেছে। সে সময় গরু পালনকারীদের বাজারে প্রচলিত যেকোনো কোম্পানির টিকা প্রদান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তারা অনেকেই এতে কর্ণপাত করেননি। পরে এলাকায় রোগ ছড়িয়ে পড়লে অনেকে টিকা দিয়ে সুফল পাচ্ছেন না। নিয়মানুযায়ী টিকা প্রদানের ১৫ দিন পর থেকে টিকার কার্যকরিতা শুরু হয়। পাশে আক্রান্ত গরু থাকলে টিকার ডোজ দেওয়া হলেও তা কার্যকর নাও হতে পারে। তবে স্থানীয় পশুচিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী এ রোগে ২ মাসে প্রায় অর্ধশত গরু মারা গেছে।

আড়বাব গ্রামের জিল্লুর রহমান, আবুল হোসেনসহ নওশারা সুলতানপুরের বেশ কয়েকজন খামারি জানান, গরুর শরীরে জ্বর, গুটি, ক্ষত, খাবারে অরুচি ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর কোনো ওষুধেই কাজ হচ্ছে না। অধিকাংশ খামারি হোমিও চিকিৎসা, ধূপ, ন্যাপথলিনের বড়ি ও নিমপাতা ব্যবহার করে চিকিৎসার চেষ্টা করছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ জানান, গবাদিপশুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ ছড়ায় মে-জুন মাসের দিকে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের মধ্যে টিকা দেওয়া হলে গবাদিপশুর এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। আমরা উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে খামারিদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। অনেকেই গুরুত্ব দেননি।

তিনি আক্রান্ত গবাদিপশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখা, খামারে নিয়মিত জীবাণুনাশক ব্যবহার, মশা-মাছির বিস্তার রোধের পরামর্শ দেন। তিনি আরো জানান, নতুনভাবে জুলাই মাসের জন্য ২৫ হাজার ডোজ টিকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। টিকা সরবরাহ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আক্রান্ত এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়