মোস্তাফিজুর রহমান, সরিষাবাড়ী (জামালপুর)

  ৫ ঘণ্টা আগে

জামালপুরের সরিষাবাড়ী

প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় নেই ভাগাড়, দূষণের শিকার নদী

প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পাওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভায় এখনো গড়ে ওঠেনি একটি স্থায়ী স্যানিটারি ডাম্পিং স্টেশন। ফলে প্রতিদিন পৌর বর্জ্য খোলা জায়গা, জলাশয়ের আশপাশ এবং নদীতীরে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে ঝিনাই ও সূবর্ণাখালী নদী দখল ও দূষণের আশঙ্কাও বাড়ছে। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত সরিষাবাড়ী পৌরসভা ২০২৪ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে। ২১ দশমিক ৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৫৫ হাজার ৮৪০ জন। রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড ও ৩৪টি মহল্লা। নাগরিক সেবার পরিধি বাড়লেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো- একটি স্থায়ী স্যানিটারি ডাম্পিং স্টেশন এখনো নির্মিত হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কের পাশে, খোলা জায়গায় এবং জলাশয়ের আশপাশে বর্জ্য সাময়িকভাবে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় এসব বর্জ্য দীর্ঘ সময় পড়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিমলা বাজার, আরামনগর বাজার, বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং পৌরসভার অন্যান্য স্থান থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্যের একটি অংশ পৌরসভার গাড়িতে করে কামরাবাদ এলাকার ঝিনাই নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদী দখল ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া শিমলা ও আরামনগর বাজার এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার ময়লা ও দূষিত পানি সরাসরি সূবর্ণাখালী নদীতে গিয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পপুলার এলাকার বাসিন্দা আছিয়া বেগম বলেন, ‘বর্ষাকালে খোলা জায়গায় ফেলে রাখা বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দুর্গন্ধে বসবাস

ও ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

পৌরসভার শিমলাপল্লী তাড়িয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সুমন শিকদার বলেন, শিমলা বাজার থেকে শিমলাপল্লী যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে ভাগাড়ের কারণে নাক চেপে চলতে হয়। এতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাসাবাড়িতে স্বাভাবিকভাবে থাকা যায় না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও করা হয় না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। জামালপুর পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি ও পরিবেশবিদ জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো পৌর এলাকার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলায় মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয় এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় আধুনিক স্যানিটারি ডাম্পিং স্টেশন না থাকা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ঘাটতির পরিচায়ক। এদিকে, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কেন ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়নি, এ নিয়ে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে কি না, জমি অধিগ্রহণে কোনো জটিলতা রয়েছে কি না এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী- এসব বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে সরিষাবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়ার পর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে

স্যানিটারি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পৌরবাসীর দাবি, দ্রুত উপযুক্ত স্থানে পরিবেশসম্মত স্যানিটারি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হোক। তাদের ভাষ্য, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়