তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

  ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ভালো ফলনে জমেছে ক্ষীরার হাট, দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে জমে উঠেছে মৌসুমি ক্ষীরার হাট। সারা দেশেই রয়েছে এই ক্ষীরার চাহিদা। তবে ক্ষীরার ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৭৫ হেক্টর জমিতে ক্ষীরার চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৭৫ হেক্টর বেশি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বীজ, সার ও কীটনাশক সঠিক সময়ে পাওয়ায় ক্ষীরার বাম্পার ফলন হয়েছে। ক্ষীরাকে কেন্দ্র করে তাড়াশ উপজেলার দিঘুড়য়িা গ্রামে গড়ে উঠেছে সব চেয়ে বড় ক্ষীরার মৌসুমি হাট। এ হাটে প্রতিদিন ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার এসে ক্ষীরা কিনে নিয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কোহিত, তালম সাতপাড়া, সাচানদীঘি, সান্দুরিয়া, খোসালপুর, বারুহাস, নামো সিলট, দিঘড়য়িা, দিয়ারপাড়া, খাসপাড়া, রানীদীঘি, তেঁতুলিয়া ও বরগ্রামে মাঠের পর মাঠ ক্ষীরার আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে বারুহাস ইউনিয়নে। দিঘুড়িয়া এলাকায় ক্ষীরা বিক্রি করার জন্য মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছে সবচেয়ে বড় আড়ৎ। প্রতিদিন ভোর থেকে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা এই আড়ত এ ক্ষীরা আনেন বিক্রি করার জন্য। বিভিন্ন জেলার পাইকাররা ও স্থানীয় পাইকাররা ক্ষীরা কিনতে আসেন এই আড়ত এ। সাধারনত দুপুরের পর শুরু হয় ট্রাক লোড, এরপর ট্রাক যোগে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ক্ষীরাগুলো চলে যায়। প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টন ক্ষীরা যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে।

বারুহাস ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের ক্ষীরা চাষি রমজান আলী বলেন, গত মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে ক্ষিরা চাষ করেছিলাম। লাভ ভালোই হয়েছিল তাই এবার পাঁচ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। সাধারনত এক বিঘা জমিতে ক্ষিরা চাষে খরচ হয় ২০ হাজার টাকার মতো। গত বছর এক বস্তা (৪০ কেজি) ক্ষিরা বিক্রি হতো ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০টাকা, বর্তমানে ৬০০-৭০০টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে সময়ের সঙ্গে দামটা আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে তারা ক্ষিরা চাষে আগ্রহ হারাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কৃষি অফিসের লোকজন সার্বক্ষণিক কৃষকদের ক্ষিরা চাষে উৎসাহ, পরার্মশ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগীতা করে আসছেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়