নূরনাহার নিপা

  ২২ ঘণ্টা আগে

সবুজ ও দুষ্টু ফড়িং

সবুজ দিনরাত বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকে। বই পড়ার পাশাপাশি সে প্রকৃতিকেও খুব ভালোবাসে। সুযোগ পেলেই বন্ধুদের সাথে আড্ডা, বন্ধুদের কথা না শুনে কি উপায় আছে! ছাদের ওপরে বাড়ির আঙিনায় টব বসিয়ে অনেক ফুলের চাষ করেছে সবুজ। ফুল তার খুব পছন্দ। লাল ফুল, হলুদ ফুল, সাদা ফুল, ফুলে ফুলে বাগান ভরে গেছে। ফুলের গন্ধে ছুটে আসে নানা রঙের চঞ্চলা প্রজাপতি। এক বং দুষ্টু ফড়িং উড়াল দিলো পাতার ভিড়ে অমনি করে ঢুকে। সবুজ ফড়িং ধরার পিছে হাতটি যখন ফড়িংপানে রাখে, এমনি করে খেলছে দুষ্টু ফড়িং আবার উড়াল দিলো দেয়নি ধরা তাকে। ফড়িং কখনো মাঠে, ঘাসে, দিঘির পাড়ে ছুটে বেড়ায় অপার আনন্দে, ফুল যেখানে পাপড়ি মেলে একটু বসে একটু খাবার পেলে।

ফড়িংয়ের বিচিত্র চরিত্র দেখে, সবুজ হাসে। সবুজ রোজ ফুলগাছকে ফড়িংকে স্বাধীনতার কবিতা ও গল্প শুনায়..!

ফড়িং সারাদিন ফুলের গাছে ওপর বসে গান গাইত, নাচত আর মজা করত।

বন্ধু সুমন অন্য বন্ধুদের ডেকে দেখায়, ওই দেখ সবুজ, ফড়িংয়ের সাথে কথা বলে, ফুলের গায়ে হাত বুলায়।

বন্ধুরা যেন লুটিয়ে পড়ে হাসিতে।

বন্ধুদের এবার কৌতূহল জেগেছে মনে, সবুজ ব্যাপারটা কী? সবুজ, সুমন তোরা জানিস না, রোজ ফড়িং আমার সাথে আনন্দ করে, ফড়িংয়ের পিছু ছুটে যায়,

সবুজ আকুল হয়ে ফড়িংয়ের সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে।

দেখছিস ফড়িং বেশ কয়দিন অসুস্থ। খুব একটা নড়েচড়ে না, আমার মনটাও ভালো নেই।

এতক্ষণে ফড়িং নড়েচড়ে ওঠে। সবাই চমকে ওঠে।

সবুজ ঘাড় তুলে ফড়িং দিকে তাকাই। সবুজ হেসে উঠে বলে, ফড়িং এবার তুমি সুস্থ, হাওয়া নেচে নেচে যাও...।

হি হি করে হাসিতে লুটিয়ে পড়ে সুমন ও রিমন।

রিমন, সত্যই কি তুই ফড়িংয়ের ভাষা বুঝতে পারিস? সবুজ কত সহজেই উওর দেয়, হ্যাঁ। পারিই তো।

হাসি থামলে সে শুধায়, দিনেও স্বপ্ন দেখে মানুষ?

হ্যাঁ, সেটাই তো বাস্তব স্বপ্ন।

মনোযোগ দিয়ে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যা, তাহলে স্বপ্ন হবে সত্যই।

ধ্যাৎ! স্বপ্ন নিয়েও এত ঝামেলা! তাই হয় নাকি! এটাই তোর স্বপ্ন, সাধনা, ইচ্ছে।

আজ ম্যাডামের ক্লাস মনে আছে তোদের?

সুমন সত্যই সবুজ সবদিকে তোর বেশ নজর, সারাদিন পড়তেও পারিস। তোর সব স্বপ্ন সফল হোক...!

ম্যাডাম ক্লাসে ঢুকেই প্রশ্ন করেন-

এরই মাঝে সবুজ উঠে দাঁড়িয়ে বলে, সব উত্তর।

সুমন, রিমন, অপরের মুখের দিকে তাকায়।

রিমন কৌশলে সবুজের ফুলবাগান ও ফড়িংয়ের কথা ম্যাডামকে বলেন, আবারও হাসির ঢেউ আছড়ে পড়ে সারা ক্লাসে।

ম্যাডাম- হাসছ কেন তোমরা?

সবুজ খুব ভালো একটা কাজ করছে, তোমরাও বাড়ির পাশে, বাড়ির আঙিনায় গাছ লাগাতে পারো।

ম্যাডাম খুব খুশি হন।

ম্যাডাম, সবুজের চোখে চোখ রেখে ঠোঁটের কোনায় একটুখানি হাসেন। তারপর এগিয়ে এসে মাথায় হাত রেখে বলেন,

এই পৃথিবীতে তোমার মতো সুন্দর মনের মানুষ খুব প্রয়োজন।

সুমন, এটাই তোর স্বপ্ন সাধনা।

সবুজ হ্যাঁ,

পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের কবিতা, যেমন-

আমার বাড়ির ফুল বাগিচা

ফুল সকলের হবে,

আমার ঘরের মাটির প্রদীপ

আলোক দেবে সবে।

আমি অনেক অনেক গাছ লাগাতে চাই। সুমন, রিমন, আজ থেকে আমরাও তোর পাশে আছি।

সবুজ বন্ধু, জানিস? মানুষ বদলাতেও পারে, প্রকৃতি বদলায় না, সারাজীবন আমাদের উপকার করে।

এমন সময় সবুজের অজান্তেই তার ডান হাতে উঠে বসে

ফড়িং-সবুজের চোখে-মুখে আনন্দ উপচে পড়ে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়