মো. মেহেরাব হোসেন রত্ন, ঢাকা কলেজ
তরুণ লেখকদের সিলেট ভ্রমণ

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম দেশের তরুণ লেখক, পাঠক ও চিন্তাশীল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অরাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন। সারাদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিশটিরও অধিক শাখা রয়েছে সংগঠনটির। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠচর্চা, লেখালেখি, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং দেশকে জানার আগ্রহ গড়ে তুলতে বিভিন্ন সময়ে নানা আয়োজন করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা কলেজ শাখা। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিটিসিএলএফ, ঢাকা কলেজ শাখার উদ্যোগে ১০ জুলাই সিলেটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান নিয়ে একটি শিক্ষা ও বিনোদনমূলক ভ্রমণের আয়োজন করা হয়।
ভ্রমণের শুরু হয় মালনীছড়া চা বাগান থেকে। উনিশ শতকের এই চা বাগান বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান হিসেবে পরিচিত। ১৮৫৪ সালে লর্ড হার্ডসন ১৫০০ একর জায়গার উপর এটি প্রতিষ্ঠা করেন। সবুজে আচ্ছাদিত পাহাড়ি ঢাল, চা-গাছের সারি এবং নির্মল পরিবেশ অংশগ্রহণকারীদের মুগ্ধ করে।
পরবর্তী গন্তব্য ছিল রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত মিঠাপানির জলাবন। পৃথিবীতে মিঠাপানির যে ২২টি মাত্র জলাবন আছে, ‘রাতারগুল জলাবন’ তার মধ্যে অন্যতম। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও নৌকা ভ্রমণ অংশগ্রহণকারীদের জন্য হয়ে ওঠে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। পানিবেষ্টিত বন, মুর্তা ও হিজল গাছের সারি এবং প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য রাতারগুলের অনন্য বৈশিষ্ট্যকে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ এনে দেয়।
এরপর তরুণ লেখকদের ভ্রমণ দল পৌঁছায় জাফলং। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই পর্যটনকেন্দ্র পাহাড়, পাথর ও স্বচ্ছ পানির জন্য সুপরিচিত। পাশাপাশি গোয়াইন নদীর মনোরম দৃশ্য এবং নিকটবর্তী মায়াবী ঝর্ণার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।
প্রকৃতির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয় এই সফরে। ভ্রমণসূচিতে ছিল হযরত শাহ পরান (রহ.) এর মাজার শরিফ জিয়ারত। আধ্যাত্মিক পরিবেশে কিছু সময় কাটিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেন।
দীর্ঘ যাত্রাপথে গান, গল্প,আবৃত্তি, রাফেল ড্র এবং সিনিয়র-জুনিয়রদের আন্তরিক অংশগ্রহণ ভ্রমণকে শুধু একটি দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। পারস্পরিক বন্ধন, সৌহার্দ্য ও সাংগঠনিক চেতনাকে আরো সুদৃঢ় করেছে।
বিটিসিএলএফ, ঢাকা কলেজ শাখার এই আয়োজন প্রমাণ করে, পাঠ ও লেখালেখির পাশাপাশি প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচয়ও একজন সচেতন লেখক ও নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এমন প্রত্যাশাই অংশগ্রহণকারীদের।
"









































