ছামিউল চৌধুরী, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
পাঁচটি বোতল, একটি চারা- পরিবেশ রক্ষার নতুন বার্তা

হাতে কয়েকটি খালি প্লাস্টিকের বোতল। মাত্র কয়েক মিনিট পর সেই পরিত্যক্ত বোতলের বিনিময়ে মিলছে একটি নিম, জাম কিংবা ইনডোর প্লান্টের চারা। ছোট্ট এই বিনিময় যেন বদলে দিচ্ছে পরিবেশ নিয়ে ভাবনার ধারা। নিজের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) পরিবেশভিত্তিক সংগঠন গ্রীন ভয়েস। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।
আমরা প্রতিদিনই আমাদের চারপাশে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা দেখতে পাই। অসচেতনভাবে যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলে রাখার ফলে সৃষ্টি হয় পরিবেশগত নানা সমস্যা। ড্রেন ও জলাশয়ে প্লাস্টিক জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ে নগরজট ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি। পাশাপাশি মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয়, যা জীববৈচিত্র্য এবং মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলিভেটর এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খালি প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করেন গ্রীন ভয়েসের সদস্যরা। বিনিময়ে তারা ওষুধি গাছ, ফলদ গাছ, ফুলের গাছ এবং ইনডোর প্লান্টের চারা বিতরণ করেন। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্লাস্টিকের বোতল জমা দিয়ে গাছের চারা সংগ্রহ করেন এবং পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে অংশ নেন।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই এটি কখনোই যত্রতত্র ফেলে রাখা উচিত নয়। প্লাস্টিকের পরিবর্তে একটি গাছ গ্রহণের মাধ্যমে চারপাশকে সবুজ করে তুলতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেকের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি।’
?আয়োজকদের মতে, প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলা এবং প্লাস্টিক যথাযথভাবে সংগ্রহ করে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার অভ্যাস গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে ক্যাম্পাস ও আশপাশের পরিবেশকে সবুজ করে তোলার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আয়োজকেরা জানান, কর্মসূচিতে জমা হওয়া সব প্লাস্টিক আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পরে সেগুলো পৌরসভার প্লাস্টিক সংগ্রহকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত (রিসাইক্লিং) করা সম্ভব হয়। এর ফলে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ দূষণের কারণ না হয়ে পুনর্ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মতে, এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। তাদের বিশ্বাস, এমন কর্মসূচি মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় আরো সচেতন করবে এবং প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
কয়েকটি প্লাস্টিকের বোতলের বিনিময়ে একটি গাছের চারার আর্থিক মূল্য হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু এর সামাজিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব অনেক বড়। এমন উদ্যোগই ভবিষ্যতে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই ক্যাম্পাস এবং পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
"









































