মুহাম্মাদ রাহাতুল ইসলাম

  ১৬ অক্টোবর, ২০২৩

কবি আমার দেশি মানুষ ছিলেন

ঠিক যাদের দেখলে কবি হওয়ার ইচ্ছাটা প্রবল হয় তাদের মধ্যে কবি আসাদ চৌধুরী অন্যতম। কেমন সৌম্য শান্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ মুখাবয়ব। বাংলা কবিতার উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন তিনি। কবি আসাদ চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়নে। আর আমাদের বাড়ি ছিল তার ঠিক উত্তর পশ্চিমে হিজলার ‘গোবিন্দপুরে’। কিন্তু এখন মেঘনার উপশাখা এসে মাঝামাঝি ভাগ করে দিয়েছে এই দুই এলাকাকে। তাই গোবিন্দপুর এখন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। এভাবেই নদীর অনিয়ন্ত্রিত ভাঙন প্রতিদিনই বদলে দেয় এসব এলাকার প্রাচীন মানচিত্র।

আমার যারা এসব এলাকার মানুষ, নদী, চর, ভাঙন আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। (গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) ‘সাপ্তাহিক পরিচয়’ নামক ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে কবি বলেন, আমার বাড়ির সামনে লঞ্চঘাটের নাম উলানিয়া। ব্রাকেটে লেখা কালীগঞ্জ। কালীগঞ্জ আমাদের গ্রাম থেকে ৮-৯ কিলোমিটার দূরে ছিল। আমি ছোটবেলায় গিয়েছি। দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন একবার গিয়েছিলাম আব্দুল গণি ও মোসলেম বয়াতির জারি শোনার জন্য। আমার খুব দুঃখ লাগে- আমার প্রিয় জায়গাগুলো যেখানে শৈশবে হাঁটতে হাঁটতে যেতাম, সেগুলো নদীভাঙনে হারিয়ে গেছে। নপাইয়া হোগলটুরী, পোমা, মল্লিকপুর, তেঁতুলিয়া, লাড়ুয়া, সিলোনিয়া, গোয়ালভাওর- এসব আজ আর নেই! সব মেঘনা নদী ভেঙে নিয়ে গেছে।

কাজেই নদী আমাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদী ছাড়া আমাদের যাতায়াতের সুযোগ ছিল না। গহনার নৌকায় আমরা বরিশাল সদরে যেতাম। ঢাকার স্টিমার ধরতে নদীর তীর হিজলা পর্যন্ত হেঁটে যেতে হতো। ‘নদীও বিবস্ত্র হয়’ অনেক পরে লেখা। ‘ও নদীরে’ নামে আমার একটি নদীবিষয়ক কবিতার সংকলন রয়েছে। ‘নদীর ভাঙন ও পাখির ঠোঁটে খড়’ নামে আমার কবিতার বই রয়েছে। নদী, চর, ভাঙন- এ তিনটি বিষয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক গভীর। নপাইয়া হোগলটুরী, পোমা, মল্লিকপুর, তেঁতুলিয়া, লাড়ুয়া, সিলোনিয়া ইত্যাদি স্মৃতি বিজড়িত এলাকার নাম প্রায়ই বাবার মুখে শুনে থাকি। ছোটবেলায় আমরা শুধু দেখেছি হোগলটুরী ও মল্লিকপুর এলাকার কিছু অংশ। এখন সেটুকুও হারিয়ে হয়ে গেছে উদ্দেশ্যহীন নদীর স্রোতে।

সাহিত্য বা ব্যাকরণের কথা থাক। কবির প্রতিটি শব্দচয়ন ও বাক্যের গাঁথুনি যেমনই নিখুঁত তেমন মর্মস্পর্শী। প্রতিটি কথাই ছুঁয়ে দেয় অন্তরের অন্তঃস্তল। নদীমাতৃক অঞ্চল আমাদের বরিশালের মানুষদের দুঃখ-দুর্দশার প্রদান কারণই হলো এই নদী। কবি এই নদীকেই সাহিত্যে রূপ দিয়েছেন। সাজিয়েছেন শব্দে ছন্দে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব এই কবি লেখেন, ‘নদীর জলে আগুন ছিলো/ আগুন ছিলো বৃষ্টিতে/ আগুন ছিলো বীরাঙ্গনার/ উদাস-করা দৃষ্টিতে।’ যা সত্যিই আগুন ধরিয়ে দেয় দেহ মনে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়