তানভীর আহমদ রাহী, চট্টগ্রাম কলেজ
কমলদহ ট্রেইলে এক দিন

বৃষ্টি পরবর্তী সবুজ প্রকৃতির টানে ১৪ জুলাই সকাল ১০টায় বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছিলাম সীতাকুণ্ডের কমলদহ ট্রেইলের উদ্দেশে। গন্তব্য একটাই পাহাড়, জিরি আর ঝর্ণার মিতালি। চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট থেকে যাত্রা শুরু। প্রথমে সিএনজিযোগে এ কে খান, এরপর বাসে সরাসরি কমলদহ ঝর্ণার মুখ। দুপুর ১২টার দিকে পৌঁছে যাই গন্তব্যে।
মূল সড়ক থেকে ঝর্ণা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য রয়েছে হাঁটা ও সিএনজি দুই ধরনের সুযোগ। ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা। পাশেই রেললাইন। স্থানীয় কয়েকটি হোটেলে ব্যাগ জুতা রাখা এবং আগে থেকে খাবারের অর্ডার দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ১৩০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে মেলে ঘরোয়া স্বাদের খাবার। প্রবেশ গেইটে জনপ্রতি ২০ টাকা টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করি।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই চোখে পড়ে জিরি। জিরি ধরে প্রায় ২০ মিনিট হাঁটার পর প্রথম দেখা মিলে রূপসী ঝর্ণার। ঝর্ণার স্বচ্ছ জল আর গর্জন মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেয় পথের সব ক্লান্তি। এরপর পাহাড়ের উপরের দিকে অগ্রসর হই। পথ কিছুটা পিচ্ছিল। প্রথম স্টেপটা একটু ভয়ংকর তবে নিরাপত্তার জন্য দড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। কিছুদূর যাওয়ার পর জিরি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। ডান দিকের পথে আধা ঘণ্টা হাঁটার পর দেখা মিলে রিহুইছরি ঝর্ণার। আরো এগিয়ে চোখে পড়ে পাতরভাঙ্গা ঝর্ণাসহ আরো কয়েকটি নাম না জানা ঝর্ণা। পুনরায় ফিরে এসে বাম দিকের পথ ধরি। আধা ঘণ্টা পথ পেরিয়ে দেখা মিলে ছাগলকান্দা ঝর্ণা এবং আশপাশের ছোট ছোট ঝর্ণাধারার।
বৃষ্টির কয়েকদিন পর যাওয়ায় প্রতিটি ঝর্ণাতেই ছিল পর্যাপ্ত ও স্বচ্ছ জল। একটি ঝর্ণা থেকে আরেকটিতে যাওয়ার সময় মনে হয় এটিই সবচেয়ে সুন্দর। পাহাড়-জিরি-ঝর্ণার সম্মিলনে পুরো ট্রেইলজুড়েই ছিল মুগ্ধতা। সবগুলো ঝর্ণা ঘুরে দেখে হোটেলে ফিরে দুপুরের খাবার সেরে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হই। প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের জন্য বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের ভ্রমণে কমলদহ ট্রেইল হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।
"









































