মো. মাসুদ হোসেন
দুস্থ ও অসহায়দের বন্ধু ‘প্রভাত’

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে চলেছে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র। এগিয়ে চলেছে বিশ্ব সভ্যতা। আর সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে মানুষের ব্যস্ততা। কেউ কেউ হয়তো সমাজের অন্য সবার কথা দূরে থাক, আপন লোকজনের খোঁজটুকুও রাখতে পারেন না ব্যস্ততার কারণে বা অজুহাতে। আবার অনেকেই আছেন যারা শত ব্যস্ততার মাঝেও চেষ্টা করেন সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে। তেমনি কিছু মানুষের সংগঠন ‘প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা’। ২০১১ সালে ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সংগঠন কাজ করছে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য। তারা পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায়, ঘুরে বেড়ায় রেললাইনের এপাশ ওপাশসহ ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বস্তিতে। বাড়িয়ে দেন মানবিক সাহায্য ও সহায়তার হাত।
পরবর্তীতে নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠনের সামাজিক কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে ঢাকার বাহিরে বেশিরভাগ কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন চাঁদপুর জেলা জুড়ে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরের স্বেচ্ছাসেবীরা আলাদাভাবে নিবন্ধন পেতে ‘চাঁদপুর প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা’ নামে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তারা সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে সমান অধিকারসহ তাদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। যথাসাধ্য সাহায্য নিয়ে দাঁড়িয়ে যান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা হাড় কাঁপানো শীতে রাস্তার পাশে শুয়ে থাকা অসহায় মানুষগুলোর পাশে। এখানেই শেষ নয়, সেই সাহায্যের আবেদন পূরণ করতে তাদের ছুটতে হয় সমাজের বিত্তশালীদের দ্বারে দ্বারে। কেউবা সাহায্য করেন। আবার কেউ ফিরিয়ে দেন। তবুও তাদের পথচলা থেমে থাকে না। যতটুকু সহায়তা পান পৌঁছে দেন অসহায় মানুষগুলোর কাছে। এছাড়া শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা, ধর্ষণ কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাস্তায় মানববন্ধনসহ অসংখ্য সমাজ সচেতনতামূলক কাজ করে চলেছে সংগঠনটি। গত বছরের শেষের দিকে ঘটে যাওয়া ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় পানি বন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদানসহ ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে এই সংগঠনটি।
২০২০ সালে দেশে করোনা মহামারির সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক বিতরণের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে প্রথম ভূমিকা রাখেন চাঁদপুর প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা। পরবর্তীতে ওষুধ, অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা, ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার পরেও রান্না করা ইফতার বিতরণ, মাস্কসহ নানা চিকিৎসা সামগ্রী সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়াও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দিবস কিংবা বর্ষা মৌসুমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার, সমাজের অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করতে তাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও কর্মহীন ব্যক্তিদের স্বাবলম্বীকরণে গরু-ছাগল সহ দোকান করে দিয়ে যাচ্ছেন সংগঠনের একঝাঁক তরুণ। বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রাণ সহায়তা প্রদান ছাড়াও অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ, শিক্ষা সহায়তা, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও রক্তদান করে যাচ্ছেন তারা। এমনকি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষাদানসহ শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নাশতার ব্যবস্থাও করে থাকেন উক্ত স্বেচ্ছাসেবীরা। এছাড়াও বিভিন্ন দিবস কিংবা সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের উপর রচনা প্রতিযোগিতা। দক্ষ নেতৃত্ব আর স্বেচ্ছাসেবীদের কঠোর পরিশ্রমে উপকৃত হচ্ছেন সমাজের পিছিয়ে পড়া অসহায় মানুষগুলো। তবে সংগঠনের এসব স্বেচ্ছাসেবীর বেশিরভাগই হচ্ছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
অলাভজনক ও অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের সদস্য হাবিবুর রহমান, মো. মাসুদ হোসেন ও জুয়েল হোসেন জানান, আমরা মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়েই মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যা বর্তমানের মতো ভবিষ্যতেও শতবাধা অতিক্রম করে সাহায্যের থলি হাতে নিয়ে যথা সময়ে পৌঁছে যাবে অসহায়দের পাশে। আমরা দেশের পিছিয়ে পড়া সমাজ এগিয়ে নিতে কাজ করে চলেছি। আমাদের কাজের গতিশীলতা এবং পরিধি বাড়ানোর জন্য আপনাদের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি। সেই সঙ্গে সমাজের বিত্তশালী মানুষগুলোকেও এমন সামাজিক ও মানবিক কাজে পাশে পেতে চাই।
তারা জানায়, প্রভাতের এমন কার্যক্রম চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ ও কচুয়া উপজেলায় পরিচালনা করে আসছেন। যদিও চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও মতলব সরকারি কলেজেও প্রভাতের কমিটির ছিল একসময়। ওইসব কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে চলে যাওয়ায় কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে দেন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার কেন্দ্রীয় পরিষদ। তাদের এমন মহতী ও মানবিক কার্যক্রমে খুশি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। সেই সাথে সবার কাছে প্রশংসিতও হয়েছেন খুব সহজেই।
"









































