সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের সাবেক এমপি চয়ন ও তার স্ত্রী কারাগারে

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে প্রতিদন্দী বিএনপির প্রার্থী ড. এম, এ মুহিতের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মোটরসাইকেল ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও মারধরের অভিযোগে সম্প্রতি দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দুটিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একই মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী জোসনা খানমকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এর আগে গত রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় একটি বাড়িতে পলাতক থাকা অবস্থায় চয়ন ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জোসনা খানমকে ছাত্র-জনতার সহযোগিতায় আটক করে পুলিশ।
শাহজাদপুর থানার ওসি আসলাম আলী বলেন, ‘গাজীপুরে আটক হওয়ার পর চয়ন ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জোসনা খানমকে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে শাহজাদপুর থানায় আনা হয়। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের শাহজাদপুর চৌকি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে প্রতিদন্দী বিএনপির প্রার্থী ড. এম, এ মুহিতের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মোটরসাইকেল ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় উপজেলার ফরিদ পাঙ্গাসী গ্রামের বিএনপি কর্মী বাদশা মিয়া বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অপসারিত এমপি ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চয়ন ইসলাম ও তার বোন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মেরিনা জাহান কবিতাসহ ৮০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।’
একই ঘটনায় শ্রীফলতলা গ্রামের বিএনপি কর্মী আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর আরেকটি মামলা দায়ের করেন বলেও জানান ওসি আসলাম। তিনি জানান, মামলায় অপসারিত এমপি চয়ন ইসলাম ও তার বোন সাবেক এমপি মেরিনা জাহান কবিতাসহ ৭১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উভয় মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন- শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শেখ আব্দুল হামিদ লাভলু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ রহমান, শাহজাদপুর পৌরসভার অপসারিত পৌর মেয়র মনি আক্তার খান তরু লোদী ও সাবেক এমপি মেরিনা জাহান কবিতার ছেলে সুমগ্ন করিম। এই দুই সাবেক এমপিসহ (ভাই-বোন) দলের ৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর শহীদ জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহাদৎ হোসেন বাদী হয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।
পিডিএস/এমএইউ









































