শাকিলা নাছরিন পাপিয়া
প্রধান অতিথি

এক.
জলিল সাহেব ঝাঁপসা চোখে তাকালেন।
হাস্যমুখে দাঁড়িয়ে যে ছেলেটি তাকে চেনা মনে হচ্ছে।
মনে করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
ছেলেটি একটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করছে।
মনে পড়েছে।
কয়েকমাস আগে ছাদে সাউন্ড বক্স নিয়ে নেচেগেয়ে সুন্নতে খৎনার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে এই ছেলেটি ছিল।
মেডিকেল থেকে তিনদিন পর বাড়ি ফিরছিল তার ছেলে তাকে নিয়ে। হার্টের সমস্যা নিয়ে মেডিকেলে গিয়েছিলেন তিনি। শব্দে মাথা, বুক দুটোই ব্যথা করছিল।
বাড়ির সামনেই ছিল এই ছেলেটি।
জলিল সাহেবের ছেলে এই ছেলেকে অনুরোধ করে বলেছিল সাউন্ড কমাতে।
ছেলেটি রেগে উত্তর দিয়েছিলা, আপনাদের সমস্যার জন্য আমাদের এত টাকার অনুষ্ঠান বাদ দিতে হবে? ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে থাকেন।
কোনো অনুরোধই সেদিন শোনেনি এই ছেলে। বরং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছে। আরো জোরে শুরু করেছে শব্দের তান্ডব।
দুই.
ওইতো দাঁড়িয়ে, ওয়াজ কমিটির সভাপতি।
ওয়াজ উপলক্ষে সারা এলাকায় মাইক দিয়ে সয়লাব করে দেওয়া হয়েছিল।
শব্দটা ঘরে এমনভাবে ঢুকছিল যেন কানের ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা।
নাতিটার পরীক্ষা পরের দিন। শব্দের জ্বালায় কানপাতা যাচ্ছিল না।
মাইকটা ঘুরিয়ে অন্যদিকে দিতে বলায় বলেছিল, কবরে তো প্রায় চলেই গিয়েছেন। এবার একটু আল্লাহর নাম নিন।
আল্লাহর নাম শুনলে গায়ে আগুন জ্বলে?
তিন.
বাড়ির সামনে যে কারখানার ধোঁয়া আর শব্দে ঘরের সবাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার মিলছে না সে কারখানার মালিকও এসেছে।
কারখানার শব্দ আর গন্ধে প্রচন্ড গরমের মধ্যেও দরজা- জানালা বন্ধ রাখতে হয়। তারপরও নিস্তার নেই।
চার.
সবাই এসেছে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ৮৫ বছরের জলিল সাহেবকে প্রধান অতিথি করার জন্য।
সবার আলাদা আলাদা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যে অনুষ্ঠানে রাখা যাবে সে অনুষ্ঠান বেশি মর্যাদাপূর্ণ হবে।
তাই তো তিন-চারটি অনুষ্ঠানেই জলিল সাহেবকে প্রয়োজন।
পরস্পর কথা কাটাকাটি চলছে।
সবাই চাচ্ছে জলিল সাহেব তাদের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হবেন। ঝগড়ার শব্দ ক্রমেই বাড়ছে।
জলিল সাহেব ভাবছেন, কেন যুদ্ধ করেছিলেন তিনি?
প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য?
"





































