নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

  ৪ ঘণ্টা আগে

আষাঢ়েও অনাবৃষ্টি

বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন বীজতলা ফেটে চৌচির

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় আষাঢ় মাসের শেষ সময়েও পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা নেই। অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে কৃষকরা রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরি এবং মাটিতে হাল চাষ করতে পারছে না। পানি সংকটে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের এই উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা।

তৈরি করা আমন ধানের বীজতলা বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আষাঢ়ের চড়া রৌদ্রে বিস্তীর্ণ মাঠের মাটি ফেটে শক্ত হয়ে গেছে। ফলে জমিতে হালচাষ করা যাচ্ছে না। বৃষ্টির পানি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করছেন, যা আমন চাষের উৎপাদন খরচ বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে। বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর এমনিতেই নিচে। প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে সময়মতো চারা রোপণ করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন প্রান্তিক কৃষকরা। আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকলেও বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে উপজেলার হাজারো কৃষকের।

এলাইপুর গ্রামের কৃষক ওবায়দুর রহমান বলেন, কষ্ট করে আমনের বীজতলা তৈরি করেছিলাম কিন্তু বৃষ্টির অভাবে চারাগুলো রোদে পুড়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে। আর কয়েকদিন এমন থাকলে সব চারা মরে যাবে। নতুন করে বীজ ফেলার সময় থাকবে না। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে।

তবে কৃষকদের হতাশা না হওয়ার অনুরোধ করেছেন কৃষি বিভাগ। খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। বৃষ্টির ঘাটতি মেটাতে সম্পূরক সেচ হিসাবে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ না বাড়িয়ে ফিতা পাইপের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা করে বীজতলা বাঁচিয়ে রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন তার।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়