বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধায় শাহেদ কামালকে চিরবিদায়

প্রবীণ সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক খণ্ডকালীন শিক্ষক শাহেদ কামালকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার সহকর্মী, শিক্ষক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রোববার(৫ জুলাই) দুপুরে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রহমান, অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, অধ্যাপক আবুল মনসুর আহমেদ, অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, অধ্যাপক মফিজুর রহমান, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল হক, সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার, সহযোগী অধ্যাপক শবনম আজীম, সাংবাদিক মুন্নী সাহা, অধিকারকর্মী খুশী কবির, বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শারমিন রিনভীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাসহ (বাসস) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘শাহেদ কামাল ছিলেন একজন চলন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। রাজনীতি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান—জ্ঞানচর্চার এমন কোনো ক্ষেত্র ছিল না, যেখানে তার গভীর দখল ছিল না। তিনি সব সময় তথ্যনির্ভর ও সত্যভিত্তিক কথা বলতেন।’
সাংবাদিক মুন্নী সাহা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘শাহেদ কামাল ছিলেন আমার স্পিরিচুয়াল ফাদার। তার শিক্ষার্থীরা আজ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে। তিনি নিয়মিত সংবাদ পড়তেন এবং সাংবাদিকতার প্রতি তার নিবেদন ছিল অসাধারণ। আমরা প্রায়ই বলতাম, যেখানে গুগল থেমে যায়, সেখানে শাহেদ কামাল উত্তর দিতেন।’ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানে জোহরের নামাজের পর তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে শাহেদ কামালের মরদেহ জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে নেওয়া হলে সেখানে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর বিকেল ৪টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে তার মা কবি সুফিয়া কামালের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন শাহেদ কামাল। দীর্ঘ সময় তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ১৯৭৬ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করেন। সাংবাদিকতাবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।









































