মনির হোসেন, বেনাপোল (যশোর)

  ৪ ঘণ্টা আগে

যশোরের শার্শা

জনবল সংকটে ধুঁকছে উপজেলা মৎস্য অফিস

যশোরের শার্শা উপজেলা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য উৎপাদনকারী এলাকা। মাছ উৎপাদনে জেলার শীর্ষস্থানীয় এ উপজেলায় প্রতিবছর হাজার হাজার টন মাছ উৎপাদিত হলেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য অফিস দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ জনবল সংকটে ধুঁকছে।

অনুমোদিত ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই বছরের পর বছর শূন্য থাকায় মাত্র দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে কোনো রকমে চলছে সরকারি দপ্তরটির কার্যক্রম। এতে একদিকে ব্যাহত হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের তদারকি, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মৎস্যচাষি ও জেলেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস শার্শা উপজেলায়। কৃষির পাশাপাশি মৎস্য খাতও এ অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। উপজেলায় খাস পুকুর রয়েছে ৩২টি, যার মোট আয়তন ৪ দশমিক ৪০ হেক্টর। এছাড়া বেসরকারি পুকুর রয়েছে ৭ হাজার ১৭৩টি, যার মোট আয়তন ৩ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৬০ হেক্টর। এসব জলাশয় থেকে বছরে প্রায় ২৯ হাজার ৬৮৬ দশমিক ৮৬ টন মাছ উৎপাদিত হয়।

রুই, কাতলা, মৃগেল, বিভিন্ন প্রজাতির কার্প, তেলাপিয়া, গুলশা, পাবদা, কৈ, শিং, মাগুর ও পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদনে শার্শার সুনাম রয়েছে জেলা ও জাতীয় পর্যায়েও। কিন্তু এত বৃহৎ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নানা ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার মুখে পড়ছে উপজেলা মৎস্য অফিস।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, দপ্তরটিতে অনুমোদিত মোট পদ ছয়টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। এর মধ্যে মৎস্য সম্প্রসারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা পদটি সৃষ্টির পর থেকেই কখনো পূরণ হয়নি।

উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা পদটি প্রায় ১১ বছর ধরে শূন্য। ক্ষেত্র সহকারী পদে গত চার বছর ধরে কেউ নেই। অন্যদিকে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদটিও প্রায় ১১ বছর ধরে শূন্য পড়ে আছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে মাছের খামার পরিদর্শন, নতুন উদ্যোক্তাদের পরামর্শ প্রদান, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন, পরিসংখ্যান সংগ্রহ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, ভ্রাম্যমাণ অভিযান এবং দাপ্তরিক নানা কাজ একই সঙ্গে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরত কর্মকর্তাদের।

এ অবস্থায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া সম্ভব হয় না। অফিসের সীমিত জনবল দিয়ে বিশাল কর্মপরিধি সামাল দিতে গিয়ে নানা ধরনের প্রশাসনিক চাপও বাড়ছে। এতে সরকারের মৎস্য উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে জনবল সংকটের মধ্যেও উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা নিয়মিত মাঠে গিয়ে খামারিদের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানান স্থানীয় মৎস্যচাষিরা। তাদের ভাষ্য, লোকবল কম থাকলেও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সবসময় আন্তরিকতার সঙ্গে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে পর্যাপ্ত জনবল থাকলে সেবার মান আরো বৃদ্ধি পেত।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় মাত্র দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা, মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনেক কষ্ট করতে হয়।

তবু জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে।

মৎস্য খাতে শার্শার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা ও উৎপাদন ধরে রাখতে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত শূন্য পদগুলোয় জনবল নিয়োগের দাবি জানান। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে মাঠপর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়বে, উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের মৎস্য উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে আরও কার্যকরভাবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়