মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

  ৭ ঘণ্টা আগে

প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে বক্তব্যের জেরে গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মামলা

নওগাঁর মহাদেবপুরে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার জের ধরে হাসিনা খাতুন (৫৪) নামে মধ্যবয়স্ক এক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। গত শুক্রবার সকালে প্রতিপক্ষরা সন্ত্রাসী কায়দায় হাসিনাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেঁধে রেখে চোখে মুখে ও গোপনাঙ্গে ঝালের গুঁড়া লাগিয়ে গাঁজার পুরিয়া ঢুকিয়ে দেয়। তিনি উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মহিষবাথান সরদারপাড়া গ্রামের আহাদ আলীর স্ত্রী। এদিন সকাল ৮টায় তার বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আগের দিন দুপুরে তিনি গণঅভ্যুত্থানের পর তার বাড়িঘরে আগুন দিয়ে মারপিট করে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে বিরোধীয় জমি দখলের প্রতিবাদে গাহলী বাজারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার সে বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

গত শুক্রবার আব্দুল মতিন মন্ডল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে গতকাল শনিবার ভুক্তভোগী আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার ভুক্তভোগী মহিষবাথান সরদারপাড়া গ্রামের আহাদ আলীর স্ত্রী হাসিনা খাতুন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় আব্দুল মতিন মন্ডল, তার শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রীসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। তবে পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় চিকিৎসাধীন হাসিনা খাতুন শুক্রবার জানান, মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার জের ধরে আব্দুল মতিনের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘরের মধ্যে থেকে তাকে মারপিট করতে করতে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে একটি ডাবগাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। সেখানে তার চোখ-মুখে, সারা শরীরে এমনকি গোপনাঙ্গে ঝালের গুড়ো লাগিয়ে দেয়। তার নিম্নাংশে গাঁজার একটি পুড়িয়া ঢুকিয়ে দেয়। এসময় তার আর্তচিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তদের হুমকিতে তারা হাসিনাকে উদ্ধার করতে সাহস পায়নি। এ অবস্থায় তাকে ও তার স্বামীকে বেদম মারপিট করে। এ সময় হাসিনার মেয়ে হাফেজা খাতুন পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে মহাদেবপুর থানায় গেলে ঘটনার আড়াই ঘণ্টা পর এসআই মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসিনা ও তার স্বামীকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কোনো মামলা হয়নি।

জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে আব্দুল মতিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আজকে যে বিষয়টি নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে সেটা তাদের পারিবারিক বিষয়। তারা চাচাতো, জেঠাতো ভাইয়ে ভাইয়ে গ-গোল। এটা রাজনৈতিভাবে হেনস্থা করার জন্য আমার ওপরে নিয়ে আসছে।’

এসআই মহিদুল ইসলাম জানান, তিনি অন্য একটি মামলার তদন্তে গিয়েছেন। ফিরে এসে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, এ ব্যাপারে শনিবার ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়