হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের মোতাওয়াল্লির বিরুদ্ধে ৪০০ পৃষ্ঠার অভিযোগ 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স খ্যাত আহমদ আলী পাটোয়ারী ওয়াকফ এস্টেটের সাবেক ও বর্তমান মোতওয়াল্লীর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, জালিয়াতি, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনে বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ ন্যায়-বিচারের লক্ষ্যে কমপ্লেক্সে রিসিভার নিয়োগের আবেদন জানান।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, কমপ্লেক্সের কোটি টাকা আয় থাকা সত্ত্বেও মসজিদের দৃশ্যমান উন্নয়ন না করে সাবেক ও বর্তমান মোতওয়াল্লী দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকফ সম্পত্তির অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, আহমদ আলী পাটোয়ারী ওয়াকফ এস্টেটের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের সুষ্ঠু হিসাব না দিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম চালিয়ে আসছে। এতে ওয়াকফ সম্পত্তির প্রকৃত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, অনেক ব্যক্তি ওয়াকফ এস্টেটের বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করলেও তারা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। বরং টাকা ফেরত চাইলে নানা ধরনের হয়রানি ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এরমধ্যে ভুক্তভোগী আজাদুর রহমান মাসুদ মজুমদার বলেন, আমি ৩টি দোকান বাবদ প্রায় ৬৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু মসজিদ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ আমার বিনিয়োগকৃত ৩টি দোকান দেড়কোটি টাকা বিক্রি করে দিয়েছে। এখন আমার টাকা ফেরৎ না দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে।

কবির হোসেন লিটন বলেন, আমি দোকান বাবদ ৪২ লাখ ও শেয়ার বাবদ ৬০ লাখ টাকাসহ তাদের দেওয়া ২৭টি চেকে ১ কোটি ৮২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩৭ টাকা পাওনা আছি। আমার টাকা পরিশোধ না করে কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে।

শাহআলম বলেন, আমার মাধ্যমে আমার ২০ জন আত্মীয় ৮২ লাখ টাকা শেয়ার এবং ২ জনের চারটি দোকান বাবদ ৫৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। এখন টাকা ফেরৎ পাচ্ছিনা। ফেরৎ চাইতে গেলে মামলা-হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছি।

কামাল হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আমি ও আমার স্বজনদের'সহ মোট ২০ লাখ টাকার পাওনা আছি। আমরা তাদের (মসজিদ কমপ্লেক্স কর্তৃ) কাছে জিম্মি। তারা মামলা, হামলার ভয় দেখায়। আমরা নিরূপায়।

দ্বীন মোহাম্মদ সিটু জানান, শেয়ার বাবদ ৫ লাখ, মালামাল বাবদ প্রায় ২ লাখ টাকা পাওনা আছি। টাকাতো পাচ্ছিনা, উল্টো আমরা হয়রানির শিকার।

আলাল হোসেন নামের অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক কোটি টাকা সমমূল্যের সম্পদ দখলের চেষ্টা করে আসছে তারা। আমি বাধা দিলে এবং প্রতিবাদ করলে আমাকে হয়রানিসহ তারা স্থানীয় প্রভাবশালী লোকদের দিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

বক্তব্য শেষে তারা তথ্য-প্রমাণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় চারশ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগের বই প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে তুলে দেন।

এ সময় তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার বিভাগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের বিনিয়োগকৃত অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এ সময় বেশ কয়েজন ভুক্তভোগী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কর্মরত প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়