কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
কসবার আলোচিত নার্স মুর্শিদা সাময়িক বরখাস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা দেওয়ার পর অর্থ দাবি এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে আলোচিত সিনিয়র স্টাফ নার্স মুর্শিদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জাতীয় গণমাধ্যম ও টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রবিবার (৭ জুন) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারীর শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্ববোধ ও জনসেবার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে এবং তার কর্মকাণ্ডে নার্সিং পেশার মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ঘটনায় তার কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) এবং বিধি ১২(১) অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রুজুর স্বার্থে ও মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আদেশ জারির তারিখ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার উপজেলার বিশারাবাড়ী গ্রামের দুই শিশুকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার পর ‘পুশিং’ বাবদ অর্থ দাবি করে তাদের স্বজনদের আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে সিনিয়র স্টাফ নার্স মুর্শিদার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দেওয়ায় তিনি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে উত্তেজিত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
ঘটনাটি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনে প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরবর্তীতে তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, রোগীর স্বজনদের কাছে টাকা চাওয়া এবং এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নার্সিং অধিদপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
তিনি আরও জানান, সাময়িক বরখাস্তকালীন একজন সরকারি কর্মচারী বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা ও সুবিধা পাবেন, তবে তিনি পূর্ণ বেতন-ভাতা বা নিয়মিত চাকরিজনিত সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না এবং কোনো দায়িত্বও পালন করতে পারবেন না।









































