reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

বিশ্বকাপে প্রযুক্তির বিস্ময়

স্মার্টফোনের মতো ‘চার্জ’ দিতে হবে এই বলে!

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং এর পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত হয় নানা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন।

চলমান কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিশ্বকাপের তেমনই এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ (Trionda)। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বল হিসেবে এটিকে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্মার্টফোনের মতো দিতে হবে ‘চার্জ’: এই বলের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রযুক্তি হলো—এটিতে প্রচলিত উপায়ে বাতাস ভরার কোনো প্রয়োজন নেই! এটি পুরোপুরি চার্জের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ঠিক যেন একটি স্মার্টফোন! একবার ফুল চার্জ দিলে বলটি একটানা প্রায় ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সচল থাকতে সক্ষম।

নামকরণ ও নকশায় তিন দেশের মেলবন্ধন: নামটির পেছনে রয়েছে গভীর তাৎপর্য। ইংরেজি উপসর্গ ‘ট্রাই’ (অর্থ তিন) এবং স্প্যানিশ শব্দ ‘ওন্ডা’ (অর্থ তরঙ্গ বা ঢেউ) থেকে এসেছে ‘ট্রাইওন্ডা’।

এটি মূলত তিন আয়োজক দেশের ঐক্য ও যৌথ আয়োজনের প্রতীক। বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস-এর তৈরি এই বলের নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে লাল, সবুজ ও নীল রঙের ঢেউ, যা তিনটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে। পাশাপাশি বলের গায়ে গ্রাফিকসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তিন দেশের জাতীয় প্রতীকও।

নকশার আরেকটি চমৎকার দিক হলো এর কেন্দ্রীয় প্যানেল-বিন্যাস। ত্রিভুজাকৃতিতে মিলিত হওয়া প্যানেলগুলো উত্তর আমেরিকার তিন দেশের সংস্কৃতি এবং ফুটবল আবেগকে ফুটিয়ে তোলে।

ফুটবল ইতিহাসে প্রথম: ট্রাইওন্ডার অন্যতম বড় আকর্ষণ এর শারীরিক গঠন। প্রচলিত ফুটবলের তুলনায় এতে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র ৪টি প্যানেল, যা বিশেষ তাপীয় প্রযুক্তির (Thermal Bonding) মাধ্যমে জোড়া দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনো অফিশিয়াল বল এত কম প্যানেল দিয়ে তৈরি করা হয়নি।

উইন্ড টানেল বা বায়ু-পরীক্ষায় দেখা গেছে, এর গভীর সেলাই ও বিশেষ জ্যামিতিক নকশার কারণে বাতাসে বলের গতিপথ দারুণ স্থিতিশীল থাকে। গতি কমে গেলেও বলের আচরণ থাকে নিয়ন্ত্রিত ও অনুমানযোগ্য, যা খেলোয়াড়দের পাসিং, শট নেওয়া এবং গোলকিপারদের বল গ্রিপিংয়ে বাড়তি সুবিধা দেবে। এছাড়া বলের বাইরের বিশেষ টেক্সচারের কারণে ভেজা বা আর্দ্র আবহাওয়াতেও খেলোয়াড়রা নিখুঁতভাবে বল স্পিন করাতে পারবেন।

অফসাইড ও ফাউল ধরবে ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’: প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের দিক থেকে ট্রাইওন্ডাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে অ্যাডিডাসের ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’। বলটির ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে একটি ৫০০ হার্জ ইনার্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (IMU) মোশন সেন্সর চিপ। এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের গতিবিধি ও স্পর্শের তথ্য নিখুঁতভাবে সংগ্রহ করতে পারে।

বলের এই তথ্যগুলো তাৎক্ষণিকভাবে চলে যায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার কাছে। ফলে মাঠের অফসাইড যেমন দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাবে, তেমনি পেনাল্টি বক্সে হ্যান্ডবল, ফাউল বা যেকোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সেন্সরের ডেটা রেফারিদের সাহায্য করবে।

সব মিলিয়ে, মাঠের রোমাঞ্চ বাড়াতে ট্রাইওন্ডা শুধু একটি সাধারণ ম্যাচ বল হিসেবে নয়, বরং আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের এক নতুন যুগের প্রতীক হিসেবেই বিশ্বমঞ্চ কাঁপোচ্ছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়