বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬
প্যারাগুয়ের জালে এক হালি গোল যুক্তরাষ্ট্রের

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করেছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। ম্যাচের নায়ক ছিলেন জোড়া গোল করা ফরোয়ার্ড ফোলারিন ব্যালোগুন।
এই জয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসেও একটি বিশেষ কীর্তি গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্যালোগুন হলেন মাত্র দ্বিতীয় মার্কিন ফুটবলার, যিনি এক বিশ্বকাপ ম্যাচে একাধিক গোল করলেন। এর আগে ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন বার্ট প্যাটেনড।
এছাড়া এটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে সবচেয়ে বড় জয়। ১৯৩০ সালে প্যারাগুয়ে ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের সমান বড় ব্যবধানের জয় পেল তারা এবারও।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র ৭ মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার ড্যামিয়ান বোবাদিয়া, যদিও সেটি ছিল আত্মঘাতী গোল। গোলের পুরো কৃতিত্ব অবশ্যই ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের। দুই ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে গিয়ে ওয়েস্টন ম্যাককেনিকে বল বাড়ান তিনি। ম্যাককেনির কাটব্যাক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন বোবাদিয়া।
২৮ মিনিটে ব্যালোগুন গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। তবে তিন মিনিট পর আর ভুল হয়নি। পুলিসিচের নিখুঁত পাস থেকে জোরালো শটে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মোনাকোর এই স্ট্রাইকার।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোলও তুলে নেন ব্যালোগুন। মালিক টিলম্যানের থ্রু বল ধরে দ্রুতগতিতে ডিফেন্ডার ওমার আলদেরেতে-কে পাশ কাটিয়ে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লিড দাঁড়ায় ৩-০।
বিরতির পরও চাপ ধরে রাখে স্বাগতিকরা। তবে ৬৫ মিনিটে খেলার গতির বিপরীতে একটি গোল শোধ দেয় প্যারাগুয়ে। সাবেক ব্রাইটন ফরোয়ার্ড হুলিও এনসিসোর পাস থেকে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড মৌরিসিও।
শেষ মুহূর্তে আসে ম্যাচের সেরা গোল। বদলি খেলোয়াড় জিওভান্নি রেইনা যোগ করা সময়ের শেষ আক্রমণে ২০ গজ দূর থেকে ডান পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। তার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের।
এই জয়ের ফলে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র, আর হতাশার শুরু হলো প্যারাগুয়ের।
পিডিএস/এমএইউ









































