নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

অবরুদ্ধ স্ত্রী-সন্তানেরা

নবীনগরে জায়গা-সম্পত্তির লোভে প্রবাসীর পরিবারকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

যিনি দূর প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন, সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবারই আজ নিজ দেশে, নিজ বাড়িতে আপনজনদের নির্মম লোভ ও পৈশাচিকতার শিকার। পৈতৃক জায়গা-সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের নাটঘর গ্রামে এক প্রবাসী পরিবারের ওপর চালানো হয়েছে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন। শুধু নির্যাতনই নয়, প্রবাসীকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে, ঘর লুটপাট এবং অবুজ শিশুদেরসহ দীর্ঘক্ষণ ঘরে তালাবন্ধ করে রাখার মতো রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।

​এই নজিরবিহীন ও অমানবিক ঘটনার বিচার চেয়ে বর্তমানে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-এ একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (সি.আর. মামলা নং- ৬১০/২০২৬ইং), যা উচ্চতর তদন্ত সংস্থা সিআইডি (CID) কর্তৃক তদন্তাধীন রয়েছে। তবে মামলা ও তদন্ত চললেও থামেনি অভিযুক্তদের হুমকি-ধামকি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী শাহ জালাল মিয়া অত্যন্ত আবেগতাড়িত ও ক্ষোভের সাথে জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত সৌদি আরবে কর্মরত থেকে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন। কিন্তু নিজেদের লোকজনের লোভী দৃষ্টি পড়ে তার পৈতৃক সম্পত্তির ওপর। তারা বেআইনিভাবে জমি দখল করে রাখলে, শাহ জালাল মিয়া দেশে এসে আমিন (ভূমি পরিমাপক) দ্বারা জমি পরিমাপের উদ্যোগ নেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নাটঘর গ্রামের চিহ্নিত ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির একটি দল। তারা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে প্রবাসীর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।

বাদীনী রত্না বেগম ও তার প্রবাসী স্বামী জানান, আসামীরা শাহ জালালকে লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। সন্ত্রাসীদের নির্মম আঘাতে তার কোমরের জয়েন্ট ও ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায়, যার ফলে তিনি বর্তমানে চরম কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।ঘটনা ​এখানেই শেষ নয়, হামলার পর আসামীরা ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে প্রবাসীর কষ্টার্জিত নগদ ২ লক্ষ টাকা, প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং দামী স্যামসাং মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এরপর রত্না বেগম ও তার দুটি ছোট অবুঝ সন্তানকে ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে ২টি বড় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন।দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ ও অভুক্ত থাকার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিলে নবীনগর থানা পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু প্রশাসনের লোক চলে যাওয়ার পরপরই আসামীরা পুনরায় ঘরে তালা মেরে দেয় এবং রত্না বেগমকে সন্তানদেরসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বীরদর্পে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

​মামলার প্রধান আসামীরা হলেন-রাসেল মিয়া (৩৫), সোহেল মিয়া (৩০), শাহজাহান (৫০), আব্দুল্লাহ (২৫), রকিবুল ইসলাম (২২), জাহিদুল ইসলাম (২০), স্বপন মিয়া (২৮) এবং শারমিন আক্তার (৩০)।

​বর্তমানে আদালতের নির্দেশে মামলাটি সিআইডি (CID) তদন্ত করছে এবং বিজ্ঞ আদালত আগামী ১৬/০৮/২০২৬ইং তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সিআইডি তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও আসামীরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে এখনো রত্না বেগম ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা প্রবাসীর স্ত্রী রত্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি আমার দুটি ছোট বাচ্চা নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। ওরা আমার স্বামীকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে, আমাদের সবকিছু লুট করে নিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে শুধু এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার ও আমার সন্তানদের নিরাপত্তা চাই।"

এ ব্যাপারে বিবাদীদের কাছে জানতে চাইলে তারা ঘটনার অস্বীকার করে বলেন, বাদীর পরিবারটি অসামাজিক তারা কারোর সাথে সম্পর্ক রাখেনা।শাহজালাল আমাদেরকে দা দিয়ে কুপিয়ে মাথা রক্তাক্ত করে পরে নিজের ঘরে নিজে তালা লাগিয়ে আমাদেরকে দোষ চাপিয়ে দিতে চায়।পুলিশ তাদের উদ্দেশ্য বুঝে গেছে।

​একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবারের ওপর নিজ বাড়িতে আপন লোকদের এমন পৈশাচিক ও অমানবিক নির্যাতনে সমগ্র এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এলাকার সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এই সন্ত্রাসী, লুটেরা ও ভূমিদস্যু চক্রকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সিআইডি ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়