শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

লোকসংগীতের সুরের পাখি অনিল হাজারিকা পেলেন আর্থিক সহায়তা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

একসময় যার কণ্ঠে মুগ্ধ হতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামবাংলা, যার গান ছড়িয়ে পড়েছিল মাঠ-ঘাট, নদী-নালা আর জনপদের অলিতে-গলিতে, শতাধিক নয়, সহস্রাধিক আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা এই গুণী শিল্পী অনিল হাজারিকার হাতে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের শিল্প কলা শাখা থেকে ৩ লক্ষ টাকার অনুদানের চেক তুলে দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী এ্যাড: নিতাই রায় চৌধুরী। এর আগে "অনিল হাজারিকার জীবনে এখন বেদনার সুর" শিরোনামে দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আজ শুক্রবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে বিনামূল্যে ঢেউটিন, গৃহমঞ্জুরী (চেক), জিআর (চাল) ও জিআর নগদ টাকা (চেক) বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত থেকে এ অনুদানের চেক তুলে তিনি।

এসময় তিনি বলেন, আমাদের সরকার অসহায় মানুষের জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা ছিন্নমূল, অসহায়, হতদরিদ্র মানুষের সহায়তার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি আরো বলেন,

আমাদের সরকার দুর্নীতির ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সুতরাং আমিও কোনো দুর্নীতিকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দিব না। এমনকি কেউ যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে দুর্নীতি করতে চাই তাকেও আমি ছাড় দিব না। আমাদের যুব সমাজকে মাদক ও দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তাদেরকে খেলাধুলো ও সংস্কৃতির চর্চার সুযোগ করে দিতে হবে।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শালিখা উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা হরেকৃষ্ণ অধিকারী, শালিখা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি) এম সাব্বির হাসান, শালিখা থানা অফিসার ইনচার্জ আশিকুর রহমান, মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য মুন্সি মনিরুজ্জামান চকলেট, শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুজাফফর হোসেন টুকু প্রমূখ। এছাড়াও শালিখা উপজেলার ভিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপির ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনিল হাজারিকা মাগুরার শালিখ উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের তিলখড়ি গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্রেন স্টোকজনিত কারণে অসহায় জীবনযাপন করতেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা নিয়ে যার চিন্তা ছিল দিবারাত্র। অনিল হাজারিকা দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে লোকসংগীতের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। তার লেখা ও সুর করা গান একসময় মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, প্রকৃতি ও জনজীবনের নানা অনুষঙ্গ তার গানে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়